ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও নাট্যপাড়ায় এখন গভীর শোকের ছায়া। থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ও প্রতিশ্রুতিশীল নাট্যকর্মী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর (২৬) আকস্মিক প্রয়াণে তৈরি হয়েছে এক শোকাতুর পরিবেশ। গতকাল সকাল আটটার দিকে রাজধানীর বাড্ডার নিজ বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ একে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করলেও এর নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মিমোকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যে তাঁর নিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে বাড্ডা থানা-পুলিশ।
মিমোর এই অনাকাঙ্ক্ষিত চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না তাঁর শিক্ষক, সহপাঠী ও শিল্পজগতের সতীর্থরা। থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক এক শোকবার্তায় অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, “এমন মৃত্যু আমাদের কাছে অকল্পনীয়। বিভাগের প্রতিটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা আজ শোকে স্তব্ধ। আমরা এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, যাতে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।”
মিমোর সহকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফাও এই খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “অবিশ্বাস্য, মুনিরা মাহজাবিন মিমো! সেদিনও তো তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা হলো। আমরা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।” নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নোভা আহমেদ এই পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমাদের একাডেমিক পরিবেশে যেকোনো জটিলতা নিয়ে কথা বলার জন্য একটি নিরাপদ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের ট্র্যাজেডি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
পরিচালক প্রীতি দত্ত মিমোর সাথে কাটানো স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একটি আবেগঘন ছবি পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, “মিমো ছিল এক প্রাণচঞ্চল প্রাণশক্তি। আমি যখন বিভাগে মাস্টার্স করতে ভর্তি হয়েছিলাম, মিমো সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিত। এমন কর্মচঞ্চল ও হাসিখুশি একটা মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে, তা ভাবতেই পারছি না। আর কোনোদিন তাঁর সাথে দেখা হবে না ভাবলে বুকটা ফেটে যাচ্ছে।”
নাট্যকর্মী হিসেবে মিমো ছিলেন অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল। ‘লাইসেন্স’ নামে একটি মঞ্চনাটক নির্দেশনা দিয়ে তিনি নিজের মেধার পরিচয় দিয়েছিলেন। এ ছাড়াও নিয়মিত অভিনয় করতেন বিভিন্ন নাটকে। তাঁর সৃজনশীল স্বপ্নগুলো এভাবে অঙ্কুরেই ঝরে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম গুরুত্বের সাথে এগিয়ে চলছে এবং গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষকের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।