কোরীয় বক্স অফিসে কেন এত আতঙ্ক? ১৯ লাখ দর্শকের হৃদস্পন্দন থামিয়ে দিল যে সিনেমা

দক্ষিণ কোরীয় চলচ্চিত্রের ভুবনে এখন এক অন্যরকম আতঙ্কের আবহ বিরাজ করছে। দর্শকহৃদয়ে কাঁপন ধরিয়ে বক্স অফিসের শীর্ষ মুকুটটি নিজের দখলে রেখেছে নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত হরর সিনেমা ‘সালমোকজি: হুইস্পারিং ওয়াটার’। ‘কোরিয়ান ফিল্ম কাউন্সিল’ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত মাত্র তিন দিনে ছবিটি ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৬৩ জন দর্শককে সিনেমা হলে টেনেছে। এর মাধ্যমে গত ৮ এপ্রিল বড় পর্দায় আসার পর থেকে সিনেমাটি এখন পর্যন্ত মোট ১৯ লাখ ৮০ হাজার দর্শকের এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে সু-ইন নামের এক তরুণীকে কেন্দ্র করে, যার চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন কিম হে ইউন। গল্পের প্রেক্ষাপট একটি সিনেমার শুটিং দলকে নিয়ে, যারা এক বিশেষ ‘ডেডলাইন’ বা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে দুর্গম এক লোকেশনে যায়। কিন্তু সময় যত ফুরিয়ে আসে, রহস্যের জাল তত ঘনীভূত হয় এবং পুরো দলটি সেখানে এক অদৃশ্য জালে আটকা পড়ে যায়। পরিস্থিতি এমন এক বিভীষিকাময় রূপ নেয় যে সেখান থেকে জীবিত ফিরে আসা কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে।

সিনেমার অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো এর স্যুটিং লোকেশন। দক্ষিণ চুংচিয়ং প্রদেশের ইয়েসান কাউন্টির একটি নির্জন ও বিশাল জলাধারে সিনেমাটির দৃশ্যায়ন করা হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, বাস্তব জীবনেও ওই এলাকাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে দীর্ঘকাল ধরে অতিপ্রাকৃত বা ভৌতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। জলাধারটির এই কুখ্যাত ইতিহাস সিনেমার পর্দায় এক অদ্ভুত শিহরণ ও বাস্তবধর্মী আবহ তৈরি করেছে, যা দর্শককে চুম্বকের মতো টানছে।

কোরীয় এই হরর ঝড়ের সামনে কিছুটা ম্লান হয়ে পড়েছে হলিউডের দাপট। বিশ্বখ্যাত সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ গত ১৮ মার্চ কোরিয়ায় মুক্তি পেলেও এই সপ্তাহে এটি দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে এসেছে। গত তিন দিনে এই ছবিটির টিকিট বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৮২টি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মহাজাগতিক অ্যাডভেঞ্চারের চেয়ে ঘরের পাশের অতিপ্রাকৃত রহস্যেই এখন বেশি মজেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমাপ্রেমীরা। ‘সালমোকজি’র এই জয়যাত্রা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মৌলিক গল্প আর রোমাঞ্চকর লোকেশনের সংমিশ্রণ থাকলে ঘরোয়া সিনেমা দিয়েও বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।