বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ফ্যাশন জগতের অন্যতম কালজয়ী সিনেমা ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’। দীর্ঘ ২০ বছরের প্রতীক্ষার পর অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এর সিক্যুয়েল। তবে সিনেমাটি মুক্তির আগেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন এর প্রধান অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে। গুঞ্জন উঠেছিল যে, হ্যাথাওয়ের ব্যক্তিগত আপত্তির কারণে শুটিং সেট থেকে ‘জিরো সাইজ’ বা অত্যন্ত কৃশকায় মডেলদের ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’-তে যোগ দিয়ে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে অভিহিত করে সত্য প্রকাশ করেছেন তিনি।
এই আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল গত মার্চ মাসে, যখন সিনেমার আরেক কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপ ‘হার্পার’স বাজার’ ম্যাগাজিনকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন। স্ট্রিপ জানিয়েছিলেন যে, শুটিং সেটে পোশাক প্রদর্শনের জন্য আসা মডেলদের মাত্রাতিরিক্ত কৃশকায় ও অসুস্থ চেহারা দেখে তাঁরা দুজনেই বেশ বিচলিত হয়েছিলেন। স্ট্রিপের মতে, হ্যাথাওয়ে অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সরাসরি প্রযোজকদের কাছে গিয়েছিলেন এবং দাবি তুলেছিলেন যাতে ফ্যাশন শোর দৃশ্যে কেবল কঙ্কালসার মডেলদের না রেখে বিভিন্ন শারীরিক গড়নের মানুষের ‘বৈচিত্র্য’ বা ‘বডি ইনক্লুসিভিটি’ নিশ্চিত করা হয়।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে সিনেমাটির রাজকীয় প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে এই বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন হ্যাথাওয়ে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কেবল প্রযোজকদের কাছে একটি প্রস্তাব রেখেছিলাম। আমার মনে হয়েছিল পর্দায় বিভিন্ন ধরনের শারীরিক গড়নের উপস্থিতি থাকলে দৃশ্যটি আরও প্রাণবন্ত এবং দর্শকদের জন্য উপভোগ্য হবে। প্রযোজকরা আমার কথাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানেই প্রয়োজনীয় সমন্বয় করেন।”
তবে এই মানবিক পদক্ষেপটিই পরবর্তীতে ভুলভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে, হ্যাথাওয়ের কারণে অনেক চিকন মডেল চাকরি হারিয়েছেন। এই অভিযোগ অস্বীকার করে হ্যাথাওয়ে ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে বলেন, “আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আকারের ভিন্নতা আনতে গিয়ে কেউ কাজ হারাননি। বিষয়টি মোটেও তেমন নয় যে মানুষকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, বরং এই বৈচিত্র্য আনতে গিয়ে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’, ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’ কিংবা মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’-এর মতো বড় বাজেটের ছবিগুলো বক্স অফিসে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’ সেই ধারা বজায় রাখবে। দীর্ঘ দুই দশক পর মেরিল স্ট্রিপ ও অ্যান হ্যাথাওয়ের রসায়ন আবারও পর্দায় দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন দর্শক। বডি পজিটিভিটি এবং পেশাদারিত্বের এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করে হ্যাথাওয়ে এখন তাঁর নতুন সিনেমার রাজকীয় ওপেনিংয়ের অপেক্ষায়।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।