ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের স্বর্ণালি সময়ের আরও এক নক্ষত্রের পতন ঘটল। হিন্দি সিনেমার শক্তিমান ও বহুমুখী অভিনেতা ভরত কাপুর আর নেই। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে মুম্বাইয়ে নিজ বাসভবনে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে প্রবীণ এই শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বলিউডের তিন দশকের এক উজ্জ্বল অভিনয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে।
পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার পাশাপাশি ভরত কাপুর গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার বেলা তিনটার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অভিনেতার দীর্ঘ ৫০ বছরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহ-অভিনেতা অবতার গিল শোকাহত হৃদয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভরত কাপুর গত তিন দিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন এবং তাঁর শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে গিয়েছিল। সোমবার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের একটি শ্মশানে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
ভরত কাপুরের অভিনয়ের হাতেখড়ি হয়েছিল থিয়েটারের মঞ্চে। মঞ্চনাটকের সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে পর্দার অভিনয়ে এক অনন্য গভীরতা এনে দিয়েছিল। গত শতকের সত্তরের দশকে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও দেব আনন্দের ভাই চেতন আনন্দের হাত ধরে তাঁর রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে। এরপর দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর তিনি হিন্দি সিনেমায় দাপটের সাথে কাজ করেছেন। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনো তিনি হয়েছেন নিষ্ঠুর খলনায়ক, কখনো ন্যায়নিষ্ঠ আইনজীবী, আবার কখনো কঠোর পুলিশ কর্মকর্তা। প্রতিটি চরিত্রেই তিনি নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।
তাঁর দীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ‘নুরি’, ‘রাম-বলরাম’, ‘লাভ স্টোরি’, ‘বাজার’, ‘গুলামি’, ‘আখরি রাস্তা’, ‘সত্যমেব জয়তে’, ‘স্বর্গ’, ‘খুদা গাওয়া’ এবং ‘রং’-এর মতো ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় সিনেমাগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘বরসাত’ এবং ‘সাজন চলে শ্বশুরাল’-এর মতো ছবিগুলোতেও কাজ করেছেন। তাঁর সর্বশেষ আলোচিত কাজগুলোর মধ্যে ছিল ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মীনাক্ষী: আ টেল অব থ্রি সিটিস’।
কেবল বড় পর্দা নয়, নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশনের আঙিনাতেও ভরত কাপুর ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। ‘ক্যাম্পাস’, ‘আমানত’, ‘তারা’ এবং ‘চুনৌতি’র মতো ক্ল্যাসিক ধারাবাহিকগুলোতে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী লোপা এবং দুই পুত্র রাহুল ও সাগরকে রেখে গেছেন। তাঁর একমাত্র কন্যা কবিতা কয়েক বছর আগেই পরলোকগমন করেন। গুণী এই অভিনেতার মৃত্যুতে বলিউডের বর্তমান ও প্রবীণ প্রজন্মের তারকাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।