বিশ্বরাজনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপট ও ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার কথা মাথায় রেখে ভারতকে সামরিকভাবে সর্বদা শক্তিশালী ও যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড পরিমাণ ‘বাজেট’ বরাদ্দ সেই পরিকল্পনারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের জন্য ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। ভারতের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের জন্য এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বরাদ্দ। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য বিশেষভাবে ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপি রাখা হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া তিন বাহিনীর মূলধনী ব্যয়ের জন্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি রুপি নির্ধারিত হয়েছে, যার অন্তত ৭৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প থেকে সরঞ্জাম ক্রয়ের পেছনে। এই উদ্যোগের ফলে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পভিত্তি শক্তিশালী হবে এবং বড় ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকারে মোদি গত এক দশকে তাঁর সরকারের প্রতিরক্ষা সংস্কারের সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ১০ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রায় ৩৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২৩ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। এছাড়া দেশীয় প্রযুক্তিতে সমরাস্ত্র উৎপাদনও এখন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অভিযানে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর যে বিক্রম ও সাহসিকতা দেখা গেছে, তাতে পুরো দেশ গর্বিত। এই সফল অভিযানের মাধ্যমেই গত এক দশকের প্রতিরক্ষা সংস্কারের সুফল স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
অপারেশন সিন্দুর থেকে শিক্ষা নিয়েই কি বাজেট বাড়ানো হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে নরেন্দ্র মোদি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা প্রতিবেশী দেশের (বিশেষ করে পাকিস্তান) প্রতি অবিশ্বাসের জায়গা থেকে এই বাজেট দেখা ঠিক নয়। বরং এটি ভারতের সামগ্রিক নিরাপত্তার একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত অবস্থান। তিনি বলেন, “বাস্তবতা হলো ভারতকে সব সময় শক্তিশালী ও প্রস্তুত থাকতে হবে এবং আমাদের সরকার সেই লক্ষ্যেই অবিরাম কাজ করছে।”
সাবেক সেনাসদস্যদের কল্যাণেও সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান মোদি। এ বছর তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির জন্য ১২ হাজার কোটি রুপির বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ নীতি বাস্তবায়নের কৃতিত্বও নিজের সরকারের দাবি করেন তিনি। অতীতে প্রতিরক্ষা খাতে একাধিক দুর্নীতির কেলেঙ্কারির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে শত শত ‘স্টার্টআপ’ ও দেশীয় উদ্ভাবনকে সুযোগ দিচ্ছে, যাতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সুসজ্জিত হতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।