রামিসা হত্যাকাণ্ড ‘জাতীয় ব্যথা ও লজ্জা’: দোষীদের দ্রুততম সময়ে বিচারের ঘোষণা তথ্যমন্ত্রীর

রাজধানীসহ দেশজুড়ে আলোচিত শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী এই ঘটনাকে পুরো জাতির জন্য এক গভীর ক্ষত ও অবমাননাকর অধ্যায় হিসেবে চিত্রিত করেছেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “রামিসাসহ সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া এই ধরনের হত্যাকাণ্ডগুলো অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং সভ্য সমাজের জন্য কলঙ্কজনক। আমরা ব্যথিত ও লজ্জিত। সরকার এই পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের প্রচলিত আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে এই খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”

এ সময় তথ্যমন্ত্রী দেশের গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ ও সামাজিক সচেতনতা তৈরি হয়েছে, তার প্রধান কারিগর হলো সংবাদপত্র ও টেলিভিশনগুলো। তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকদের তৈরি করা এই শক্তিশালী জনমতের ওপর ভিত্তি করেই সরকার ভবিষ্যতে আরও কার্যকর এবং কঠোর আইন প্রণয়ন করতে পারবে। সমাজ থেকে এই ধরনের ঘৃণ্য ও পাশবিক অপরাধ নির্মূল করতে মিডিয়া এবং প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

এর আগে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শেরেবাংলা কেবল একজন অবিসংবাদিত রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলার কৃষক, প্রজা ও অবহেলিত মানুষের মুক্তির দিশারি। তিনি আজীবন অসাম্প্রদায়িক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার সংগ্রাম করে গেছেন। আজকের এই অস্থির সময়ে তাঁর জীবন দর্শন অনুসরণ করা জরুরি বলেও মন্ত্রী মন্তব্য করেন।

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. আবু হানিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও সরকারের সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর এই বলিষ্ঠ বক্তব্য এবং বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।