যুদ্ধের অবসানে কি বড় মোড়? ইসলামাবাদে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে আমেরিকা-ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে আগামী সপ্তাহেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বসতে যাচ্ছে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। চরম গোপনীয়তা আর কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা এই কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ (WSJ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের নিবিড় প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন ও তেহরান বর্তমানে মাত্র এক পৃষ্ঠার একটি কৌশলগত ‘সমঝোতা স্মারক’ বা এমওইউ (MoU) নিয়ে কাজ করছে। ১৪ দফার এই খসড়া প্রস্তাবনাটি মূলত একটি সুসংগঠিত ‘আলোচনাপ্রক্রিয়ার কাঠামো’ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, যার চূড়ান্ত ও একমাত্র লক্ষ্য হলো বিদ্যমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো। এই নথিতে এমন কিছু স্পর্শকাতর বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা কয়েক দশক ধরে বিশ্ব রাজনীতির অমীমাংসিত সংকট হিসেবে বিবেচিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারকে ইরানের বহুল আলোচিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা হ্রাস এবং ইরানের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের (Uranium) মজুত অন্য কোনো নিরাপদ দেশে স্থানান্তরের মতো বৈপ্লবিক বিষয়গুলো এজেন্ডা হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে এতসব ইতিবাচক দিকের মাঝেও একটি বড় দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ বা ‘স্যাঙ্কশন’। ইরান সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, সব ধরনের অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করা তাঁদের জন্য কঠিন হবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টি আলোচনার অগ্রতিকে কিছুটা জটিল বা বিলম্বিত করতে পারে। তবে আশার কথা হলো, দুই পক্ষই সংঘাত কমিয়ে আনার বিষয়ে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে। যদি আগামী সপ্তাহের এই সংলাপ ইতিবাচকভাবে এগোয়, তবে প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত এক মাসের সময়সীমা বা ‘ডেডলাইন’ আরও বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের নীতিনির্ধারকেরা একমত হয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার প্রাণকেন্দ্র ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই ‘মেগা বৈঠক’ কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।