যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, দুই নেতার জেল হেফাজত

ভারতের দিল্লিতে যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার সকালে মন্দির মার্গ থানায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে দিল্লি পুলিশের যুক্তি শুনে তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। দলটির আরেক নেতা অজিঙ্ক শিন্ডেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁকে শান্তি ভঙ্গ না করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

দুই নেতার জেল হেফাজতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আবারও ‘কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেছেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে। তাঁর অভিযোগ, ভিন্নমত দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এ ঘটনায় সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানোকে তিনি কাপুরুষতার লক্ষণ বলে মন্তব্য করেছেন।

যেভাবে যন্তর মন্তরে ঢোকেন সিজেপি নেতারা

গত মঙ্গলবার সকালে আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অজিঙ্ক শিন্ডে পুলিশের চোখ এড়িয়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন। ওই এলাকায় প্রবেশের সড়কগুলোতে ব্যারিকেড ও পুলিশি পাহারা ছিল। একটি প্রবেশপথে থাকা লোহার ফটক টপকে তাঁরা ১০ থেকে ১২ জন সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন।

সেখানে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবি জানান তাঁরা। এ সময় ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘বন্দে মাতরম’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’সহ কেন্দ্রীয় সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন সিজেপির নেতারা।

পরে পুলিশ তাঁদের আটক করে। দিনভর আটকে রাখার পর গভীর রাতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সিজেপির অভিযোগ, দীর্ঘ সময় তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি এবং ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বুধবার সকালে তাঁদের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়।

পুলিশের যুক্তি, আগেও শর্ত ভেঙেছেন নেতারা

সিজেপির আইনজীবী অভীষ্ট হেলা গণমাধ্যমকে বলেন, দিল্লি পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছে, সিজেপির নেতারা ফোন করে যন্তর মন্তরে লোক জড়ো করেছিলেন এবং বেআইনিভাবে সেখানে প্রবেশ করেন। পুলিশের দাবি, যে এলাকায় তাঁরা ঢুকেছিলেন, সেটি বিক্ষোভ প্রদর্শনের নির্ধারিত স্থান নয়। তাঁদের মুক্তি দেওয়া হলে আবারও একই ধরনের অশান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, এর আগেও এই নেতাদের আটক করা হয়েছিল। সে সময় শান্তি ভঙ্গ না করার মুচলেকা দিয়ে তাঁরা মুক্তি পান। যন্তর মন্তরে প্রবেশের মাধ্যমে তাঁরা সেই শর্ত ভঙ্গ করেছেন বলে পুলিশের দাবি।

মোদিকে দিপকের কটাক্ষ

দুই নেতাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর খবরের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে এক বার্তায় অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘ওদের কী অপরাধ? ওরা তো যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছে? প্রধানমন্ত্রীজি, একটু সাহস দেখান। এভাবে ভিন্নমত দমানোর বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে বরং খোলামেলা জরুরি অবস্থা জারি করে দিন। কাপুরুষের মতো কৌশলের আড়ালে লুকানোর দরকার নেই।’

এদিকে বুধবার বেলা ১১টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোটা কোনো অপরাধ নয়। সে জন্য তরুণদের জেলে পাঠানোটা কাপুরুষতার লক্ষণ।’

তিনি আরও লেখেন, ‘ছাত্র, যুবা, সাংবাদিক, ইন্ডিয়া জোট ব্যানার ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য এক। সবার বিক্ষোভই এক। নাগরিকেরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার চাইছে। যন্তর মন্তর এ দেশের জনগণের। আমরা ফের তা উদ্ধার করব।’

আন্দোলনের ব্যানার আলাদা কেন?

সিজেপি ও ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলনের উদ্দেশ্য এক হলেও পৃথক কর্মসূচি নেওয়ার কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে কোনো বিরোধ বা রেষারেষি রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী তাঁর বাসভবনে আয়োজিত চা-চক্রের আমন্ত্রণপত্র এবং পরে গণমাধ্যমের সামনে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। বুধবার সকালে ‘এক্স’-এ দেওয়া বার্তাতেও তিনি জানান, ব্যানার আলাদা হলেও তাঁদের উদ্দেশ্য অভিন্ন।

নাগপুরে দুই পক্ষের বিরোধ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘সিজেপি এক স্বাধীন প্রেশার গ্রুপ। সিজেপি সব সময় এমনই থাকবে। কিন্তু এর অর্থ এই নয়, আমরা ইন্ডিয়া জোটের বিরোধী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবার লক্ষ্য এক। উদ্দেশ্য এক। আমরা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে লড়ছি, যিনি নির্বাচন চুরি করে নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতায় থাকতে সাহায্য করছেন। সিজেপি এক স্বাধীন প্রেশার গ্রুপ। তারা সব সময় এমনই থাকবে। কিন্তু এর অর্থ এই নয়, আমরা ইন্ডিয়া জোটের বিরুদ্ধে। আমাদের ও ওদের লক্ষ্য অভিন্ন। দুজনের আন্দোলনের উদ্দেশ্য এক।’

ভবিষ্যতে সিজেপি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অভিজিৎ জানান, এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।