২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা আবারও জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ‘তার মতো মানুষকে’ পুরস্কার দিতে চায় না এমন আক্ষেপও করেছেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা তিনি জানেন না। তাঁর ভাষ্য, কমিটির ‘আমার মতো মানুষকে’ পুরস্কার না দেওয়ার একটি পরিচিতি রয়েছে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করবে। এ বছর পুরস্কারের জন্য ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি ও ৭৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর থেকেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে নিজের দাবির কথা বলে আসছেন ট্রাম্প। এবারও তিনি বলেন, ‘এখন সেই সময় এসেছে’। গত বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মাচাদো গত জানুয়ারিতে নিজের ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে উপহার দেন। ট্রাম্প বলেন, মাচাদো তাকে এমন একজন হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, যিনি নোবেল পাওয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য। এ ঘটনায় নিজেকে সম্মানিত বোধ করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং এসব উদ্যোগের কারণেই নোবেল শান্তি পুরস্কার তার পাওয়া উচিত। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব মনোনয়নের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই।
ট্রাম্প যেসব সংঘাত সমাধানের কৃতিত্ব দাবি করেছেন, সেগুলোর কয়েকটিতে তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আপত্তি রয়েছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের মতো কয়েকটি অঞ্চলে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও এখনো শেষ হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
এদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পর কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রভাব ফেলছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে এবং গ্যাসের দামও বাড়িয়েছে।
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকের নামও এসেছে। তবে নোবেল কমিটি পুরস্কার ঘোষণার আগে কোনো প্রার্থীর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে তথ্য প্রকাশ করে না।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।