পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন (MSC) বিলুপ্ত করে সেটিকে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBSSC) সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এর ফলে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য আর আলাদা কমিশন থাকবে না; নিয়োগ প্রক্রিয়া স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। রাজ্য সরকারের এ সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হিসেবে মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ব্যবস্থায় আরও সমন্বয় আনার কথা বলা হয়েছে।
তবে কমিশন একীভূত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দুটি পৃথক বিল আনার প্রয়োজন হবে। এর একটি হবে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন বাতিলের জন্য এবং অন্যটি স্কুল সার্ভিস কমিশন আইনে সংশোধনের জন্য। বিধানসভায় বিল পাসের পর তা রাজ্যপালের অনুমোদন এবং গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সম্প্রতি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি সামনে আসে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদ্রাসার নিয়োগকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের আওতায় আনলে নিয়োগ ব্যবস্থায় আরও সমন্বিত কাঠামো তৈরি হবে।
এর আগে সংখ্যালঘু শিক্ষা দপ্তরের অধীনে থাকা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কেও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, গত মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেয় এবং আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ মালদা, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলায় অবস্থিত।
সরকারি সাহায্যবিহীন মাদ্রাসাগুলোর ওপর রাজ্যজুড়ে সরেজমিন সমীক্ষার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চলতি বছরের জুনে সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর এই সমীক্ষা শুরু করে। এতে মাদ্রাসাগুলোর কার্যক্রম, অবকাঠামো, অনুমোদনের অবস্থা, পরিচালনব্যবস্থা ও শিক্ষার মান যাচাই করা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় ‘খারিজি’ মাদ্রাসাগুলোর ওপর।
সমীক্ষায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসা কোনো ধরনের নিবন্ধন ছাড়াই পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন মেনে চলা এবং বৈধ অনুমোদন থাকা মাদ্রাসাগুলোকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের ভাষ্য, মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মতো তাদেরও সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।