মাঝরাতে হঠাৎ কম্পন, মাটির ঘর ধসে প্রাণ গেল ৮ জনের: আতঙ্কে দুই দেশ

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ৫.৮ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার গভীর রাতের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সিসমিক মনিটরিং এজেন্সিগুলোর তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল হিন্দুকুশ পর্বতমালায়, যা কুন্দুজ শহর থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

কাবুলের গভর্নরের মুখপাত্র হাফিজুল্লাহ বাশারাত জানিয়েছেন, রাজধানীর উপকণ্ঠে একটি বসতবাড়ি ধসে পড়লে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের আট সদস্য নিহত হয়েছেন এবং অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া এক শিশুকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও ভূমিকম্পের এপিসেন্টার বা কেন্দ্রস্থল থেকে কাবুল প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, তবুও কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে জরাজীর্ণ ভবনটি ধসে পড়ে। কেন্দ্রস্থলের নিকটবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোতে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় সেখান থেকে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য পেতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

ভূমিকম্পটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৮০ কিলোমিটারেরও বেশি গভীরে উৎপন্ন হওয়ায় এর প্রভাব দুই দেশের বিশাল এলাকা জুড়ে অনুভূত হয়েছে। পাকিস্তানে রাজধানী ইসলামাবাদসহ পেশোয়ার, চিত্রাল, সোয়াত এবং শাংলা শহরেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। তবে পাকিস্তানে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাবুলসহ অন্যান্য প্রদেশের মেডিকেল টিমগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলটি দীর্ঘকাল ধরেই ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। গত বছরের আগস্টে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে দুই হাজার ২০০-র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর কয়েক মাস পর নভেম্বরে উত্তর অঞ্চলে অন্য এক কম্পনে আরও বহু মানুষ হতাহত হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফগানিস্তানে দারিদ্র্য এবং ভঙ্গুর অবকাঠামোর কারণে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় কাদা ও কাঠ দিয়ে তৈরি ঘরগুলো শক্তিশালী কম্পন সহ্য করতে পারে না, যা এই ট্র্যাজেডিগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া