ভাতার তালিকায় বড় শুদ্ধি অভিযান: ভুয়া সুবিধাভোগীদের শনাক্তে ৩০ দিনের আল্টিমেটাম সরকারের

বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্তমান সরকার। বিগত সরকারের মেয়াদে রাজনৈতিক বিবেচনায় তৈরি করা সুবিধাভোগীদের তালিকায় অসংখ্য ‘ফেইক বেনিফিশিয়ারি’ বা ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই জট খুলতে এবং সরকারি ভাতার প্রতিটি টাকা যেন প্রকৃত অভাবী মানুষের হাতে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ শক্তিশালী কমিটি গঠন করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। কমিটির ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে বর্তমান তালিকাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ‘রিভিজিট’ বা পুনঃনিরীক্ষণ করার জন্য।

ডিসি সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেন, “সামাজিক সুরক্ষার সুবিধাভোগীদের তালিকায় থাকা অসঙ্গতিগুলো দূর করা আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আমরা চাই দল-মত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল যাঁদের প্রকৃত চাহিদা আছে, তাঁরাই যেন এই সেবা পান। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।”

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সুবিধাভোগী নির্বাচনে এবার আধুনিক ‘প্রক্সিমিটি টেস্ট’ বা নিকটবর্তিতা পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল ডেটাবেজ ও মাঠপর্যায়ের সরেজমিন তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করা হবে। তিনি মনে করেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী মহল এবং তৃণমূলের প্রশাসনের মধ্যে যদি সঠিক সমন্বয় গড়ে তোলা যায়, তবে ভাতার এই অনিয়ম চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব হবে।

বিএনপি সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মতো একটি ‘ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম’ শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ফারজানা শারমিন বলেন, “আমাদের এই উদ্যোগ দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। আমরা কেবল কার্ড দিয়ে বা মাসিক ভাতা দিয়ে দরিদ্র মানুষকে পরনির্ভরশীল করে রাখতে চাই না। বরং তাঁদের সামাজিকভাবে ও মানসিকভাবে স্বাবলম্বী করে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় ‘কানেক্ট’ বা সংযুক্ত করাই আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।”

ডিসিদের পক্ষ থেকে কোনো চ্যালেঞ্জের কথা জানানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জেলা প্রশাসকেরা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে কিছু প্রায়োগিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। সময়ের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাঁরা বর্তমান ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন। আমরা তাঁদের প্রতিটি পরামর্শ গুরুত্বের সাথে নিয়েছি এবং সেই অনুযায়ী কাজ করছি।”

উল্লেখ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির এই শুদ্ধি অভিযান সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের একটি বড় অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভুয়া নাম বাদ দিয়ে সেই অর্থ দিয়ে আরও বেশি সংখ্যক দুস্থ মানুষকে সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়। আগামী এক মাসের মধ্যে এই তদন্তের ফলাফল সারা দেশের ভাতা বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।