ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায় বড় ধস: স্টারমারের ওপর অনাস্থা জানিয়ে পদত্যাগ করলেন মন্ত্রী মিয়াত্তা

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতার কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর প্রকাশ্য অনাস্থা জানিয়ে এবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন আবাসন ও কমিউনিটি-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুনিয়র মন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলে। তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থান ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য যে, ফানবুলের এই পদত্যাগের মাত্র এক দিন আগেই গত সোমবার সরকারের আরও চারজন প্রভাবশালী পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি (পিপিএস) একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মিয়াত্তা ফানবুলে নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দক্ষিণ লন্ডনের পেকহ্যাম আসনের এই সংসদ সদস্য তাঁর পোস্টের সঙ্গে একটি বিস্তারিত পদত্যাগপত্রও জুড়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে লেখা ওই চিঠিতে ফানবুলে বর্তমান সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পরিবর্তনের যে ‘ম্যান্ডেট’ বা জনরায় নিয়ে লেবার পার্টি ক্ষমতায় এসেছিল, বর্তমান প্রশাসন সেই লক্ষ্য ও গতি নিয়ে কাজ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

চিঠিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করে লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, জনগণের কাছ থেকে পাওয়া বার্তা এখন পরিষ্কার—আপনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছেন।’ এমতাবস্থায় তিনি স্টারমারকে দেশ ও দলের বৃহত্তর স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি একটি সুশৃঙ্খল উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য দ্রুত ‘ডেডলাইন’ বা সময়সীমা নির্ধারণ করারও অনুরোধ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একজন মন্ত্রীসহ পাঁচজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এই ধারাবাহিক পদত্যাগ স্টারমার সরকারের জন্য এক বড় ধরনের অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে। দলের ভেতরেই তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে যেভাবে সমালোচনা শুরু হয়েছে, তাতে ব্রিটিশ ‘ক্যাবিনেট’ ও সরকারি কাঠামোতে বড় কোনো রদবদল বা পতনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং নিজ দলের নেতাদের এই বিদ্রোহ কিয়ার স্টারমারকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।