৪৭ বছর আগে যে মাটির স্পর্শে এক অনন্য গ্রামীন বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সেই একই জনপদে আজ ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় রচনার জন্য উপস্থিত হচ্ছেন তাঁরই উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ঐতিহাসিক দরিরামপুর ধরার খাল (বৈলর খাল) পুনর্খননের মধ্য দিয়ে আজ শনিবার (২৩ মে) এক অনন্য সেতুবন্ধন রচিত হতে যাচ্ছে। উন্নয়ন ও আবেগের এক মিশ্র আবহে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে পুরো ময়মনসিংহ জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের দরিয়ারপুর গ্রামে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি ধরার খালের পুনর্খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উল্লেখ্য, ১৯৭৬-৭৭ সালের দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশজুড়ে ‘স্বনির্ভর খাল খনন কর্মসূচি’র ডাক দিয়েছিলেন, এই খালটি ছিল তারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই খালের খনন কাজে সরাসরি যুক্ত হয়ে গ্রামীণ কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। বাবার সেই অসম্পূর্ণ কাজকে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পূর্ণতা দিতেই প্রধানমন্ত্রী আজ এই এলাকায় পা রাখছেন।
ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন সফরের বিস্তারিত তুলে ধরে দেশ মিডিয়াকে জানান, খালের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। এরপর তিনি নজরুল একাডেমির ডাকবাংলোতে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেবেন। বেলা সাড়ে ৪টায় তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন। সেখানে প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদানের পর তিনি নজরুল অডিটোরিয়ামে জেলা ও উপজেলার দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯০৬ সালে যে খালের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, ৪৭ বছর পর তাঁর সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই খালের পুনর্খনন করতে আসছেন—এটি ময়মনসিংহের আপামর জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন গতি আসবে।”
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ত্রিশালে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মীরাও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। কৃষি উন্নয়ন আর জাতীয় সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন ময়মনসিংহের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।