বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এক উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে ২০২৬) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) ঢাকায় নিযুক্ত নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশনার ডেভিড পাইন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে এই বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাইকমিশনার ডেভিড পাইন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান 'ফার্মাসিউটিক্যালস' বা ওষুধ শিল্প, বিকাশমান 'পর্যটন' খাত, উচ্চশিক্ষা এবং 'ফুড প্রসেসিং' বা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে নিউজিল্যান্ডের গভীর আগ্রহের কথা তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময় এবং কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই খাতগুলোতে বড় ধরনের বাণিজ্যিক বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য নিউজিল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার আরও সহজতর সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ নিয়ে আলোচনায় নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশনার বাংলাদেশের ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে একটি রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই লড়াকু অবস্থান বজায় রেখে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে আরও সক্রিয় নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
হাইকমিশনারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবীর বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “আমরা কেবল সমস্যার কথা বলছি না, বরং পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী ‘সবুজ অর্থনীতি’ (Green Economy) গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।” হুমায়ূন কবীর আরও স্পষ্ট করেন যে, বিশ্ব পরিমণ্ডলে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অধিকার আদায়ে কার্যকর ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিতে বাংলাদেশ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ নিউজিল্যান্ডের সাথে এই নিবিড় যোগাযোগ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে উদীয়মান শিল্পখাতগুলোতে নিউজিল্যান্ডের কারিগরি অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ তাঁর রপ্তানি বাজার আরও বহুমুখী করার সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।