ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের নতুন সূর্যোদয়? বাংলাদেশিদের জন্য ভিসায় বড় সুখবর দিতে যাচ্ছে ভারত!

ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের নতুন সূর্যোদয়? বাংলাদেশিদের জন্য ভিসায় বড় সুখবর দিতে যাচ্ছে ভারত!

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন ও ইতিবাচক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। ঢাকার নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও বহুমুখী সম্পর্ককে আরও সুসংহত এবং ‘উষ্ণ’ করার লক্ষ্যে নয়াদিল্লি তাদের জোরালো প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের এই ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক মনোভাবের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুই দেশের কূটনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা বা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল, রণধীর জয়সোয়ালের আজকের বক্তব্য তাকে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে গত কয়েক মাস ধরে সাধারণ বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তিতে যে কড়াকড়ি ও স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, তা নিরসনে এবার সরাসরি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে ভারত সরকার। ব্রিফিংয়ে জয়সোয়ালকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, ভিসা সহজ করার সিদ্ধান্তই কি সম্পর্কের উন্নতির প্রথম ধাপ হতে যাচ্ছে কি না। সরাসরি কোনো তারিখ বা 'ডেডলাইন' ঘোষণা না করলেও তিনি বলেন, “বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সম্পর্কের সার্বিক উন্নতির স্বার্থে ভিসা কার্যক্রমসহ সকল দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আমরা নতুন সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় বসব।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ভারত দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক (পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি) আরও গভীর করতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী।

কূটনৈতিক এই গুরুত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে জয়সোয়াল উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা যোগ দিয়েছিলেন। সেই সফরে ওম বিড়লা নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর হাতে নরেন্দ্র মোদির লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠিও তুলে দেন। জয়সোয়ালের ভাষ্যমতে, সেই চিঠিতে মোদি একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণে নয়াদিল্লির পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার করেছেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল কৌশলগত নয়, বরং এটি গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক শেকড়ে প্রোথিত। তারেক রহমানের সঙ্গে ওম বিড়লার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়গুলো টেনে তিনি জানান, নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে কাজ করতে ভারত উন্মুখ। বিশেষ করে ‘কানেক্টিভিটি’, ‘বাণিজ্য’, ‘জ্বালানি’ এবং ‘নিরাপত্তা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ব্রিফিংয়ের সময় ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে করা কোনো বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া না দিয়ে জয়সোয়াল সুকৌশলে তা এড়িয়ে যান এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গঠনমূলক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নয়াদিল্লি এখন অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে একটি শক্তিশালী ও আস্থাশীল অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়তে চাইছে। বিশেষ করে ভিসা সমস্যা সমাধানের এই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আশার আলো সঞ্চার করবে। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে এই উষ্ণ সম্পর্ক কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়, এখন সেদিকেই গভীর নজর রাখছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।