পুলিশে গণতান্ত্রিক সংস্কার ও বড় রদবদলের ইঙ্গিত: সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের ‘ডেডলাইন’ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশে গণতান্ত্রিক সংস্কার ও বড় রদবদলের ইঙ্গিত: সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের ‘ডেডলাইন’ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় পর দেশে একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার গঠিত হওয়ায় জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পুলিশসহ রাষ্ট্রের সকল শৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনবান্ধব হয়ে উঠতে হবে এবং হারানো জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে।


বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় তিনি এই কঠোর বার্তা প্রদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের সাথে মন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।


সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দীর্ঘ ১৮ বছর পর এ দেশে একটি অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান সরকারের কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেই জনপ্রত্যাশা পূরণে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশেষ করে পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক সংস্কার আনতে চাই আমরা। এই সংস্কার প্রক্রিয়ার কোন বিষয়গুলো আগে করা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে দ্রুত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।”


পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নৈতিক মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। নৈতিকভাবে শক্তিশালী বাহিনী ছাড়া মানুষের প্রকৃত আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। তিনি জানান, নতুন জনবল নিয়োগের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় ‘বাজেট’ মঞ্জুরির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি আধুনিক ও গতিশীল বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যুগোপযোগী উন্নয়নের জন্য একটি নিচ্ছিদ্র ও সঠিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “পরিকল্পনা ছাড়া কোনো সংস্কারই টেকসই হয় না।” এ সময় তিনি উপস্থিত দপ্তর প্রধানদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংস্কারের সুপারিশমালা দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই সুপারিশমালার ভিত্তিতেই পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রমের রোডম্যাপ তৈরি করা হবে বলে তিনি জানান।


উক্ত মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সাফ জানিয়ে দেন যে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।