পল্লবীর সেই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে বড় মোড়: বিচার শুরু হচ্ছে রামিসার খুনিদের?

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে পৈশাচিকভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আইনি প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আজ রোববার আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আবেদন জানানো হয়েছে।


আজ রোববার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ বিজ্ঞ আদালতে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগপত্রটি জমা দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ হিসেবে এখন মামলাটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।


তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার সিআইডি’র পক্ষ থেকে এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি যেমন-ডিএনএ টেস্টের ফলাফল, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং ভিসেরা রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়। এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণগুলো মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে সরকার এই মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছে।


উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে বিভীষিকাময় দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেখান থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরবর্তীতে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ দ্রুত অভিযানে নেমে প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং পরবর্তীতে সোহেলকেও গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের জেরার মুখে ও পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে ঘাতক সোহেল রানা নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এখন বিচার শুরুর প্রহর গুনছেন নিহতের পরিবার ও সচেতন নাগরিক সমাজ।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।