নিখোঁজ সেনাকে উদ্ধারে রুদ্ধশ্বাস সার্চ অপারেশন

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ দ্বিতীয় ক্রুকে দীর্ঘ দুই দিনের রুদ্ধশ্বাস প্রচেষ্টার পর উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার আকাশসীমায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গুলিতে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে ওই সেনাসদস্য নিখোঁজ ছিলেন। রোববার মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার উদ্ধারের খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া মার্কিন বিমানসেনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ক্রু বর্তমানে সম্পূর্ণ "নিরাপদ ও সুস্থ" আছেন। তবে ওই সেনাসদস্যের নাম বা তার বর্তমান অবস্থানের বিস্তারিত গোপনীয়তার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার, যখন ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ভূখণ্ডে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই প্যারাসুট নিয়ে বেঁচে ফেরা দুই বিমানসেনার সন্ধানে নামে মার্কিন বিশেষ বাহিনী। অভিযানের শুরুর দিকেই একজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দ্বিতীয় জনের খোঁজ মিলছিল না। নিখোঁজ সেনাকে উদ্ধারে গত ৪৮ ঘণ্টা মার্কিন বাহিনী তাদের সর্বাধুনিক ড্রোন ও গোয়েন্দা সরঞ্জাম ব্যবহার করে তল্লাশি অভিযান বা ‘সার্চ অপারেশন’ পরিচালনা করে।

এই উদ্ধার অভিযানটি কেবল একটি সাধারণ উদ্ধারকাজ ছিল না, বরং এটি হয়ে উঠেছিল দুই দেশের মধ্যে এক প্রচ্ছন্ন স্নায়ুযুদ্ধ। একদিকে মার্কিন কমান্ডোরা যখন তাদের সহযোদ্ধাকে ফিরিয়ে নিতে মরিয়া ছিল, অন্যদিকে ইরানও চেষ্টা চালাচ্ছিল নিখোঁজ ওই সেনাকে বন্দি করার। দুই পরাশক্তির এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত রোববার মার্কিন উদ্ধারকারী দল ইরানি বাহিনীর নাগালের বাইরে থেকে তাদের সেনাকে ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উদ্ধারকৃত দুই সেনাই মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপড়েন নতুন মাত্রা পেল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া