দেশজুড়ে হঠাৎ করেই উদ্বেগজনক হারে হাম বা ‘মিজলস’ (Measles) রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সংক্রমণের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য একগুচ্ছ বিশেষ ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ পরিপত্রের মাধ্যমে এই পাঁচ দফা নির্দেশনাবলি অবিলম্বে কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হাম এবং ‘সন্দেহজনক হাম’ (Suspected Measles) রোগীদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে পৃথক ওয়ার্ড বা বিশেষায়িত কেবিন চালু করতে হবে। কোনোভাবেই সাধারণ রোগীদের সাথে তাঁদের রাখা যাবে না, যাতে হাসপাতালের ভেতরে নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি না হয়। আক্রান্ত প্রতিটি রোগীকে হাসপাতালে দ্রুত ভর্তি করে প্রয়োজনীয় ‘প্রটোকল’ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, হামের জন্য নির্ধারিত আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলোতে (Isolation Ward) সার্বক্ষণিক পর্যাপ্তসংখ্যক দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন রাখতে হবে। রোগীদের শারীরিক অবস্থার নিবিড় পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ভূমিকা হবে প্রধান। এ ক্ষেত্রে কোনো শৈথিল্য প্রদর্শন করা যাবে না এবং সাপ্তাহিক বা অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে অন্তত দুইবার ‘রাউন্ড’ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
হাসপাতালের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে অধিদপ্তর। এখন থেকে একজন হাম রোগীর সাথে একজনের বেশি অভিভাবক বা দর্শনার্থী হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করতে পারবেন না। এ ছাড়া, ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অংশ হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সকল হাম রোগীর বিস্তারিত তথ্য প্রতিদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘এমআইএস’ (MIS) সার্ভারে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে হামের সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহজ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ যা দ্রুত মহামারির রূপ নিতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপ দেশের শিশু ও বয়স্কদের এই মরণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রতিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনাগুলো কড়াকড়িভাবে পালন করতে বলা হয়েছে এবং এর অন্যথা হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।