ইরানে বিক্ষোভ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সরকারবিরোধী এবং সংস্কারপন্থি নেতাদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান তীব্রতর হয়েছে।ล่าสุด, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারপন্থি সংগঠন ‘রিফর্মিস্টস ফ্রন্ট’-এর প্রধান আজার মানসুরিকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আজার মানসুরি, যিনি ইসলামিক ইরান পিপল পার্টির মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক নির্বাচনে একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ছিলেন। তাকে এবং আরও চারজন মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গেছে, তারা মোট ১৭ জন অ্যাক্টিভিস্টের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে দেশে একটি ‘স্বচ্ছ ও স্বাধীন গণভোট’ অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছিলেন, যা সরকারের ঊর্ধ্বতনদের রুষ্ট করেছে।
মানসুরি এর আগে বিক্ষোভে নিহতদের মৃত্যুকে ‘মর্মান্তিক বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে কোনো কিছুই এই ধরনের হত্যাকাণ্ডকে ন্যায্যতা দিতে পারে না। তবে তিনি কখনোই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগের দাবি জানাননি।
এই গ্রেফতার অভিযানের অংশ হিসেবে রিফর্মিস্টস ফ্রন্টের রাজনৈতিক কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আসঘরজাদেহ এবং সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসেন আমিনজাদেহকেও আটক করা হয়েছে। তেহরানের প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে দাবি করা হয়েছে যে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা ‘সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা’ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে তাদের যোগসাজশ ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর বিক্ষোভ দমন পদ্ধতির বিরুদ্ধে যে সমালোচনা তৈরি হচ্ছে, তা ঠেকানোর লক্ষ্যেই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান ঘোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই এই অভিযানের পক্ষে মত দিয়ে বলেছেন, যারা দেশের ভেতর থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয়, তারা জায়নবাদী শক্তি ও আমেরিকার সমমনা।
এদিকে, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কারাবন্দী নার্গিস মোহাম্মদীকে আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বিক্ষোভের ঘটনা তদন্তে একটি কমিশন গঠন করলেও আইআরজিসির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো রাজনৈতিক ক্ষমতা তার নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, যা তার সমর্থকদের গ্রেফতারে আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।