মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার চাঞ্চল্যকর দাবি করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তারা পেন্টাগনের দুটি শক্তিশালী যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। যার মধ্যে সর্বশেষ শিকার হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত ‘এ-১০’ (A-10) থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমান। আকাশপথে আধিপত্য বিস্তারের এই লড়াইতে ইরানের এমন দাবি ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তি ও কৌশলগত ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের প্রভাবশালী মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ ব্যবহার করে এই বিমানগুলো লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তেহরানের এই নতুন ডিফেন্স সিস্টেম নিখুঁতভাবে মার্কিন স্টিলথ ও অ্যাটাক এয়ারক্রাফটগুলো শনাক্ত এবং ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। জুলফাগারি আরও যোগ করেন, একটি ‘এফ-১৫ই’ (F-15E) যুদ্ধবিমান ইরানের মধ্যাঞ্চলে এবং অত্যন্ত আলোচিত ‘এ-১০’ বিমানটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে বিধ্বস্ত হয়েছে।
ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, কেশম ও হেনগাম দ্বীপের মধ্যবর্তী আকাশসীমায় টহলরত অবস্থায় ওই শত্রু বিমানটিকে টার্গেট করা হয়। ‘নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ থেকে ছোড়া গোলার আঘাতে বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটি সরাসরি সাগরে আছড়ে পড়ে। ইরানের দাবি, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের জবাবেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশটির সামরিক কমান্ড থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এই সফল অভিযান তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এমন চাঞ্চল্যকর ও সুনির্দিষ্ট দাবি করা হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। আমেরিকার এই রহস্যজনক নীরবতা এবং কোনো ধরনের ‘কনফার্মেশন’ বা ‘ডিনায়াল’ না দেওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অলিন্দে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন কার দখলে থাকবে এবং আকাশ যুদ্ধের এই সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ইরানের এই দাবি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা আমেরিকার আধুনিক আকাশ যুদ্ধের প্রযুক্তির জন্য এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে গণ্য হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।