তামিলনাড়ুর মসনদে কি তবে থালাপতি বিজয়? বড় শর্তে সমর্থন দিল কংগ্রেস

দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে কয়েক দশকের পুরোনো প্রথা ভেঙে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছেন তামিল সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। তাঁর নবগঠিত রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)-কে সরকার গঠনে নিঃশর্ত নয় বরং বিশেষ শর্তযুক্ত সমর্থন দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। তবে এই সমর্থনের বিপরীতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘ক্যাটাগরিক্যাল’ একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে— বিজয়ের সম্ভাব্য সরকারি জোটে কোনোভাবেই কোনো ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’কে রাখা যাবে না। চাঞ্চল্যকর এই রাজনৈতিক মোড় তামিলনাড়ুর মসনদ দখলের লড়াইকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) তামিলনাড়ু অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভাবশালী নেতা গিরিশ চোদাঙ্কর আজ বুধবার এক বিশেষ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, “তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি এবং কংগ্রেস লেজিসলেটিভ পার্টি (সিএলপি) যৌথভাবে টিভিকে-কে সরকার গঠনে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আমাদের এই সমর্থন বজায় থাকবে কেবল এই শর্তে যে, বিজয় এমন কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে জোটে রাখবেন না, যারা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে বিশ্বাস করে না।” মূলত বিজেপিকে লক্ষ্য করেই কংগ্রেস এই কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তামিলনাড়ু বিধানসভার সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলে ২৩৪টি আসনের মধ্যে বিজয়ের দল ১০৭টি আসনে জয় পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। (যদিও সামগ্রিক পরিসংখ্যানে ১০৮টি আসনের কথা বলা হচ্ছে)। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক ফিগার’ বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হলো ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়কের সমর্থন মেলায় বিজয়ের বর্তমান শক্তি দাঁড়াচ্ছে ১১২-তে। অর্থাৎ চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করতে তাঁকে আরও অন্তত ৬ জন বিধায়কের সমর্থন আদায় করতে হবে।

এই সমীকরণ মেলাতে থালাপতি বিজয় এখন বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে), সিপিআই এবং সিপিএম-এর মতো বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই দলগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করতে পারলে বিজয়ের ঝুলিতে থাকবে ১১৯ জন বিধায়কের সমর্থন, যা অনায়াসেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসিয়ে দেবে। তবে এরই মধ্যে চেন্নাইয়ের রাজনীতিতে নতুন গুঞ্জন ছড়িয়েছে টিভিকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এআইএডিএমকে প্রধান এডাপ্পাডি কে পলানিস্বামীর (ইপিএস) বৈঠককে ঘিরে। বিজেপির মিত্র হিসেবে পরিচিত এআইএডিএমকে-র বাসভবনে এই সাক্ষাৎ বিজয়ের ভবিষ্যৎ জোট নিয়ে নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এই জোট কেবল সাময়িক সরকার গঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং লোকসভা ও রাজ্যসভা নির্বাচনেও বিজয় ও রাহুল গান্ধীর এই রাজনৈতিক সমঝোতা অব্যাহত থাকতে পারে। কংগ্রেসের মতে, বিজয় এবং রাহুল গান্ধী উভয়েই তামিলনাড়ুর তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে একটি প্রগতিশীল ও আধুনিক সরকার গড়তে অঙ্গীকারবদ্ধ।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে দীর্ঘ ৬২ বছরের ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দ্বৈত শাসনের আধিপত্য চুরমার করে দিয়েছেন থালাপতি বিজয়। নির্বাচনে ডিএমকে ৫৯টি এবং এআইএডিএমকে ৪৭টি আসন পেয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে বিজয় দুটি আসন— ত্রিচি ইস্ট ও পেরাম্বুর থেকে জয়ী হলেও, দলীয় সূত্র বলছে তিনি পেরাম্বুর আসনটিই ধরে রাখবেন। রূপালি পর্দার গ্ল্যামার পেরিয়ে বাস্তবের রণাঙ্গনে বিজয়ের এই রাজকীয় অভিষেক এখন পুরো ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।