প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের নতুন ও শক্তিশালী সংক্রমণের মুখে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো এবং উগান্ডায় এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির নাজুকতা বিচার করে আজ রোববার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একে ‘জনস্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা’ বা পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অফ ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন (PHEIC) হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটির মতে, এই সংক্রমণ কেবল আফ্রিকাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থলসীমান্ত পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করেছে।
জাতিসংঘ এবং কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার পর্যন্ত দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে অন্তত ৮০ জনের সন্দেহজনক মৃত্যু হয়েছে। সেখানে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া ইবোলা রোগীর সংখ্যা ৮ হলেও, সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে ২৪৬ ছাড়িয়ে গেছে। ইতুরির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও আবাসিক এলাকা বুনিয়া, রামওয়ারা এবং মংগবালুতে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হওয়ার পর কঙ্গোতে এটি ১৭তম বারের মতো প্রাদুর্ভাবের ঘটনা।
এবারের প্রাদুর্ভাবটি চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ এটি ‘বুনদিবুগিও’ (Bundibugyo) নামক ভাইরাসের একটি বিশেষ ধরনের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’ বা ব্যতিক্রমধর্মী, কারণ প্রচলিত ‘জায়ার’ (Zaire) ধরনের ইবোলার জন্য কার্যকর টিকা ও ওষুধ থাকলেও, বুনদিবুগিও ধরনের জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। ফলে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি।
উগান্ডার রাজধানী কাম্পালাতেও ইতিমধ্যে দুই জনের শরীরে ইবোলার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে এক জন মারা গেছেন। আক্রান্ত এই ব্যক্তিরা সম্প্রতি কঙ্গো থেকে ফিরেছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন দেশের সরকারকে তাদের জাতীয় দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা এবং অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডব্লিউএইচও-র নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি বা তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অন্তত ২১ দিন পর্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে এবং এই সময়ে তাঁদের দেশত্যাগ বা দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। আন্তর্জাতিক এই জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে মূলত বিশ্বের দেশগুলোকে সম্ভাব্য মহামারির প্রস্তুতি নিতে সতর্ক করা হয়েছে। আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, ইবোলা আক্রান্তদের মধ্যে তীব্র জ্বর, শরীরব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল বা মৃতদেহের সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস দ্রুত সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।