জাতিসংঘে শামা ওবায়েদের বড় বার্তা: নতুন সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় কী কী থাকছে?

 নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কূটনৈতিক তৎপরতার বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জন এবং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকারের কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন।


গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারির সাথে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন শামা ওবায়েদ। আলোচনার শুরুতেই তিনি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের রূপরেখা ও দেশ গঠনের অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলো বিশদভাবে উপস্থাপন করেন। বিশেষ করে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখাকেই সরকার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে বলে তিনি জানান।


দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন ‘সোশ্যাল সেফটি নেট’ বা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রসঙ্গটিও আলোচনায় উঠে আসে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নিম্ন আয়ের মানুষ ও কৃষকদের আর্থসামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো বর্তমানে একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার কেবল উন্নয়নের বুলি নয়, বরং একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।


জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ হিসেবে অবদান রেখে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে শামা ওবায়েদ বলেন, জাতিসংঘের বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক চ্যালেঞ্জ বা বাজেট সংকট থাকা সত্ত্বেও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে তিনি সংঘাত-পরবর্তী শান্তি বিনির্মাণ প্রক্রিয়ায় নারী ও যুব সমাজকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার জন্য বিশ্ব সংস্থাটির প্রতি আহ্বান জানান।


আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল রোহিঙ্গা সংকট। প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, "নিরাপদ, টেকসই এবং স্বেচ্ছায় নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তনই এই সংকটের একমাত্র কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।" এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে এবং জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান তিনি।


বৈঠক শেষে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অসামান্য ও নিঃস্বার্থ অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ এবং তাদের পেশাদারিত্বের কথা তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন। বাংলাদেশের এই ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রশস্ত করার আশ্বাস দেন।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।