কোরবানির চামড়া কি পাল্টে দেবে অর্থনীতির মোড়? বড় সম্ভাবনার কথা শোনালেন মন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর কেবল মাংসই নয়, বরং এর চামড়া ও অন্যান্য উপজাত সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে জাতীয় অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।


আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) আয়োজিত ‘কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মূলত মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এই বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করে।


মন্ত্রী তার বক্তব্যে মাঠ পর্যায়ের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নিবেদিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং পশুর হাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় আপনাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোরবানিকে কেন্দ্র করে দেশে এক বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, যেখানে পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চামড়া ছাড়ানোর কাজে বিপুল জনবল সম্পৃক্ত থাকে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে, অসতর্কভাবে চামড়া ছাড়ানোর ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের পণ্যের মূল্য কমিয়ে দেয়। এই অপচয় রোধ করতে দক্ষ জনবল তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।


দক্ষ জনবল সংকটের সমাধানে একটি উদ্ভাবনী প্রস্তাব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও তরুণদের যদি সঠিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যায়, তবে কোরবানির মৌসুমে তারা দক্ষ হাতে চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণের কাজ করতে পারবে। এতে একদিকে যেমন চামড়ার মান অক্ষুণ্ণ থাকবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা স্বল্পমেয়াদি আয়ের একটি স্মার্ট সুযোগ পাবে। প্রয়োজনে সরকার বছরব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।


চামড়া শিল্পে লবণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, কোরবানির চামড়া যেহেতু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাদ্রাসায় দান করা হয়, তাই লবণের সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। চর্বি পরিষ্কার ও সঠিক উপায়ে লবণ প্রয়োগের মাধ্যমে চামড়ার গুণগত মান বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রকে আরও প্রশস্ত করার আহ্বান জানান তিনি।


দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় মন্ত্রী কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত পশু আমাদের খামারিদের কাছে রয়েছে। তাই চোরাই পথে বা অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় না করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা দেওয়া আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, অবৈধভাবে আসা পশু দিয়ে কোরবানি দেওয়ার ধর্মীয় ও সামাজিক নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি। তিনি দেশীয় খামারিদের রক্ষায় জনগণকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।


প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান। এছাড়া কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ এবং পরিচালক ড. এ. বি. এম. খালেদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।