কারান্তরালে নিভে যাচ্ছে নোবেলজয়ীর জীবনপ্রদীপ? জামিন পেয়ে হাসপাতালে নার্গিস মোহাম্মদি

ইরানের নিবর্তনমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করা বিশ্বের অন্যতম সাহসী কণ্ঠস্বর, শান্তিতে নোবেলজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদির শারীরিক অবস্থা চরম অবনতির দিকে। দীর্ঘ কারাবাস এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই লড়াকু নেত্রীকে অবশেষে বিশেষ বিবেচনায় জামিন দিয়ে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল রোববার নার্গিস মোহাম্মদি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, পরিবারের পক্ষ থেকে করা জরুরি আবেদনের প্রেক্ষিতে ৫৩ বছর বয়সী এই মানবাধিকারকর্মীকে রাজধানী তেহরানের পারস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁর নিজস্ব চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিবিড় চিকিৎসা শুরু হয়েছে। তবে প্যারিসে নির্বাসিত নার্গিসের স্বামী এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, নার্গিসের শারীরিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং তাঁর সার্বিক পরিস্থিতি মোটেও অনুকূলে নেই।

কারাগারে নার্গিস মোহাম্মদির ওপর নেমে আসা অমানবিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তাঁর আইনজীবী চিরিনে আরদাকানি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, কারান্তরালে থাকা অবস্থায় নার্গিস প্রায় ২০ কেজি ওজন হারিয়েছেন এবং বর্তমানে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা এতটাই কমে গেছে যে তাঁর পক্ষে কথা বলাও দুরূহ হয়ে পড়েছে। এমনকি তাঁকে দেখে চেনাটাও এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুর দিকে কারাগারের ভেতরেই তিনি দুবার ভয়াবহ হৃদ্‌রোগে বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হয়েছিলেন। সমর্থকদের আশঙ্কা ছিল, যথাযথ চিকিৎসা না পেলে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই তাঁর মৃত্যু হতে পারে।

নার্গিস মোহাম্মদির কারাবাসের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি গত ১২ ডিসেম্বর থেকে কারাবন্দী রয়েছেন। ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে একটি স্মরণসভায় অংশ নেওয়ার সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি সাজানো বিচারে ‘অপরাধ করার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ করার অভিযোগে তাঁকে আরও সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগে ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রচারণা’র অভিযোগে করা মামলায় তিনি ১৩ বছর ৯ মাসের সাজা ভোগ করছিলেন। যদিও ২০২৪ সালের শেষ দিকে অসুস্থতার কারণে তাঁকে একবার সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তেহরান প্রশাসন পুনরায় তাঁকে বন্দি করে।

ইরানে নারীর অধিকার সুরক্ষা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াকু এই ব্যক্তিত্ব ২০২৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয় করেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং বিশ্বনেতারা নার্গিস মোহাম্মদির নিঃশর্ত মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ইরান সরকারের ওপর প্রবল কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে। সারা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে তেহরানের দিকে, যেখানে এই মানবাধিকার নেত্রী তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ লড়াইটি লড়ছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।