আলোচিত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আবারও পিছিয়ে গেছে। তদন্তকারী সংস্থা নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত আগামী ৫ মে প্রতিবেদন পেশের নতুন তারিখ ধার্য করেছেন। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ মোট ১২ বার পেছাল, যা বিচারপ্রক্রিয়ায় এক ধরণের স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে।
আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তভার পাওয়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এদিনও আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থিত না হওয়ায় এবং তদন্ত কার্যক্রম অসম্পূর্ণ থাকায় আদালত আগামী মে মাসের শুরুর দিকে নতুন ডেডলাইন নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. রুকনুজ্জামান।
শরিফ ওসমান বিন হাদি রাজনৈতিক অঙ্গনের এক পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর, যখন দেশজুড়ে নির্বাচনের তফসিল ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তার পরদিনই রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় সন্ত্রাসীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে শরিফ ওসমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁর মৃত্যুর পর আইনি প্রক্রিয়ায় মামলাটি একটি নিয়মিত হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) গত ৬ জানুয়ারি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। তবে মামলার বাদী পক্ষ সেই তদন্তে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করে। বাদীর আপত্তির প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটির অধিকতর এবং নিবিড় তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে প্রদান করেন। তবে বারবার সময় দেওয়ার পরও সিআইডির পক্ষ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় মামলার ভবিষ্যত এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে এমন একজন প্রার্থীর হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, যার বিচার এখন দীর্ঘসূত্রতার জালে আটকে রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।