ইলন মাস্ক-টিম কুকদের নিয়ে বেইজিংয়ে ট্রাম্প: তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে বিশ্ব মোড়লদের রুদ্ধশ্বাস দরকষাকষি

বিশ্বের দুই প্রধান শক্তিধর রাষ্ট্র চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উত্তাপ ছড়িয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘তাইওয়ান’ ইস্যু। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তাইওয়ান নিয়ে বিদ্যমান বিরোধ যথাযথভাবে সামলানো না গেলে দুই দেশ সরাসরি রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি-র বরাতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি নিশ্চিত করেছে দেশ মিডিয়া।

বৈঠকের শুরুতে দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখার ওপর জোর দেন সি চিন পিং। তবে স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড দাবি করা চীন মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে নারাজ। সি চিন পিং স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্পকে জানান, “চীন ও মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তাইওয়ান প্রশ্নটি সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ। যদি এটি সঠিকভাবে সমাধান করা না যায়, তবে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হবে।” উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন দীর্ঘকাল ধরে তাইওয়ানে সমরাস্ত্র সরবরাহ করে আসায় বেইজিংয়ের সাথে তাদের চরম বিরোধ বিদ্যমান।

বিপরীতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেশ নমনীয় ও প্রশংসাসূচক অবস্থানে দেখা গেছে। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম বেইজিং সফরে আসা ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে ‘মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আপনি একজন মহান নেতা, যদিও অনেকে আমার মুখে এই প্রশংসা শুনতে পছন্দ করেন না। আমাদের এই বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হতে চলেছে।” ট্রাম্প এই সফরকে সমসাময়িক বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন হিসেবেও দাবি করেন।

এবারের সফরে ট্রাম্প কেবল রাজনৈতিক প্রতিনিধিদল নয়, বরং মার্কিন শিল্প খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের একটি শক্তিশালী বহর সাথে নিয়েছেন। ‘টেক জায়ান্ট’ অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক, টেসলার ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়া-র জেনসেন হুয়াংয়ের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানান যাতে মার্কিন শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

তবে রাজনীতির টেবিলের মূল আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ‘ইরান ইস্যু’। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে নিজ দেশে জনপ্রিয়তা হারানো ট্রাম্প এখন বেইজিংয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি সি চিন পিংকে অনুরোধ করেছেন যাতে চীন তার প্রভাব খাটিয়ে ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে বাধ্য করে। যদিও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেহরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক কিংবা সামরিক সমর্থন তুলে নিয়ে ট্রাম্পের পক্ষে দাঁড়িয়ে সি চিন পিং কতটা ঝুঁকি নেবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তবুও দুই বিশ্বনেতার এই মুখোমুখি সংলাপ বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের আভাস দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।