ইফতার ও সেহরির ঝক্কি কমাতে আগাম পরিকল্পনা: রান্নাঘরে কোন পণ্যগুলো আগেভাগেই ‘স্টক’ করবেন?

ইফতার ও সেহরির ঝক্কি কমাতে আগাম পরিকল্পনা: রান্নাঘরে কোন পণ্যগুলো আগেভাগেই ‘স্টক’ করবেন?

পবিত্র রমজান মাস দোরগোড়ায়। সিয়াম সাধনার এই মাসে ইফতার ও সেহরির সময় রান্নাঘরের ব্যস্ততা বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রতিবছরই দেখা যায়, রোজা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বাজারে উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয় এবং চাহিদার তুঙ্গে থাকা পণ্যগুলোর দামও ওঠানামা করে। অনেক সময় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা ভোগান্তিতে পড়েন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং ঘরের বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী আগেভাগে কেনাকাটা বা ‘প্ল্যানড স্টক’ করা একটি সময়োপযোগী ও বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত। সঠিক তালিকা করে কেনাকাটা করলে যেমন অপচয় কমে, তেমনি ইবাদতের মাসে বাড়তি মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়।


চলুন জেনে নেওয়া যাক, এক মাসের রমজানের প্রস্তুতির জন্য কোন কোন উপকরণগুলো আপনার রান্নাঘরে আগেভাগেই গুছিয়ে রাখা জরুরি:


১. শস্য ও কার্বোহাইড্রেটের জোগান: রোজার মাসে চাল, আটা বা ময়দা এবং সেমাই ও লাচ্ছার চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর সেহরির জন্য ওটস বা চিড়া কিনে রাখতে পারেন। এসব পণ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্লাস্টিক বা কাঁচের বড় পাত্র ব্যবহার করা ভালো, যেখানে বাতাস চলাচল করতে পারে। মনে রাখবেন, আর্দ্রতা ঢুকলে এসব পণ্যে দ্রুত পোকা ধরার সম্ভাবনা থাকে, তাই এগুলো শুষ্ক স্থানে রাখুন।


২. ডাল ও প্রোটিনের সমৃদ্ধ তালিকা: মসুর, মুগ, ছোলা ডাল, বুট, সয়াবিন এবং কাবলি ছোলার মতো পণ্যগুলো দীর্ঘদিন ভালো থাকে। এগুলো এক মাসের জন্য একবারে কিনে রাখা নিরাপদ। এছাড়া প্রোটিনের সহজলভ্য উৎস হিসেবে ডিম কেনা যেতে পারে। তবে এক মাসের ডিম একসঙ্গে কিনলে অবশ্যই তা ‘রেফ্রিজারেটর’ বা ফ্রিজে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।


৩. নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলা ও ভোজ্যতেল: লবণ, চিনি ও গুড় থেকে শুরু করে গুঁড়া মসলা যেমন হলুদ, মরিচ, জিরা, ধনে ও গরম মসলা আগেভাগেই কিনে ফেলুন। রান্নার জন্য সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ও ঘি সংগ্রহে রাখুন। এসব মসলা বায়ুরোধী বা ‘এয়ারটাইট’ পাত্রে রাখলে এর স্বাদ ও সুগন্ধ দীর্ঘকাল অটুট থাকে।


৪. ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ: ইফতারের প্রাণ হলো খেজুর। এছাড়া চিঁড়া, মুড়ি, বেসন ও শরবতের বিভিন্ন সিরাপ আগেভাগেই কিনে মজুত করতে পারেন। খেজুর সবসময় ঠান্ডা ও শুষ্ক জায়গায় রাখা উচিত। বেসন ব্যবহারের পর প্যাকেটের মুখ ভালোভাবে আটকে রাখুন যাতে আর্দ্রতা না ঢোকে।


৫. হিমায়িত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার: সময়ের অপচয় রোধে মুরগি ও গরুর মাংস আগেভাগেই পরিমাণমতো ভাগ করে ছোট ছোট প্যাকেটে ফ্রিজে রাখুন। সবজি সাপ্তাহিক বাজার করে কেটে, ধুয়ে এবং পানি ঝরিয়ে আলাদা বক্স বা ‘জিপলক ব্যাগে’ (Ziplock bag) সংরক্ষণ করলে রান্নার সময় দ্রুত কাজ শেষ হয়। এছাড়া আদা ও রসুন বাটা আলাদা করে ডিপ ফ্রিজে রাখা একটি দারুণ ‘স্মার্ট’ সমাধান।


৬. স্বাস্থ্যকর ডায়েট ও বিকল্প খাদ্য: দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার পর শরীরের শক্তি যোগাতে বাদাম, কিশমিশ, মধু, লেবু ও ইসবগুলের ভুসি অত্যন্ত কার্যকর। পুষ্টিকর ও হালকা এই খাবারগুলো রোজার ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে।


পরিকল্পিত স্টকের গুরুত্ব: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সবসময় খাদ্য সংরক্ষণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করে। অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা বা ‘প্যানিক বায়িং’ না করার পরামর্শ দেয়। বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে প্রত্যেকের উচিত কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকা তৈরি করা। সচেতন প্রস্তুতি এবং সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতিই পারে আপনার জন্য একটি স্বস্তিদায়ক ও ঝামেলামুক্ত রমজান নিশ্চিত করতে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।