আপনার সকালের রুটিনে কি এক গ্লাস জল আছে? চা-কফি পানের আগে যে বৈজ্ঞানিক সত্যটি উপেক্ষা করছেন সবাই

কর্মব্যস্ত দিনের সূচনায় শরীরকে ‘রিচার্জ’ বা চাঙা করতে আমরা অনেকেই ক্যাফেইন-সমৃদ্ধ পানীয়ের ওপর নির্ভর করি। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, দীর্ঘ সময় ঘুমের পর যখন আমাদের পাকস্থলী সম্পূর্ণ খালি থাকে, তখন সরাসরি চা বা কফি গ্রহণ করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। চা এবং কফিতে বিদ্যমান ‘ক্যাফেইন’ (Caffeine) এবং ‘ট্যানিন’ (Tannin) রক্তে দ্রুত মিশে গিয়ে সাময়িকভাবে উদ্দীপনা জোগালেও এটি পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালাপোড়া এবং মারাত্মক বদহজমের মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সারারাত ঘুমানোর ফলে আমাদের শরীর এক ধরনের পানিশূন্যতার (Dehydration) মধ্য দিয়ে যায়। এই অবস্থায় দিনের শুরুতেই এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করা অপরিহার্য। পানি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজমকে সক্রিয় করে এবং অন্ত্রের কার্যক্রম সচল রাখতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমায়। সকালে পানি পানের অভ্যাস কেবল পাকস্থলী পরিষ্কার রাখে না, বরং এটি ত্বককে উজ্জ্বল করতে এবং সারাদিনের কর্মশক্তি জোগাতে ‘স্মার্ট’ ভূমিকা পালন করে।

বর্তমান জীবনযাত্রার চাপে আমরা অনেকেই ‘বেড টি’ বা বিছানায় চা পানের অভ্যাসে আসক্ত। কিন্তু পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সকালে প্রথমে পানি পান করে পেটকে প্রস্তুত করার অন্তত ৩০ মিনিট পর চা বা কফি খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ। যদি পানি পানের পর হালকা নাস্তা বা বিস্কুট খেয়ে চা পান করা যায়, তবে ক্যাফেইনের নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই হ্রাস পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আমাদের ভোরের ক্ষুদ্র পরিবর্তনগুলোর মধ্যেই। চা বা কফি জীবন থেকে একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং এটি গ্রহণের সময় ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনলেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব নানা জটিল রোগ থেকে। আগামীকালের সকালটি কি তবে এক গ্লাস জল দিয়ে শুরু হবে? ভেবে দেখার সময় এখনই।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।