একটি সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য আপনার প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে প্রথম এবং প্রধান রক্ষাকবচ। পুষ্টিবিদদের মতে, আমাদের হার্ট মূলত বাহারি রঙের খাবার পছন্দ করে। খাবারের থালা যত বেশি রঙিন বা ‘কালারফুল’ হবে, হার্টের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্ভিজ্জ পুষ্টি বা ‘ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস’ তত বেশি মিলবে। তাই বাজারের তালিকায় বৈচিত্র্য আনা কেবল রুচির বিষয় নয়, এটি দীর্ঘায়ু হওয়ার একটি বৈজ্ঞানিক কৌশলও বটে।
সবুজ ও রঙিন শাকসবজির জাদু:
আপনার শপিং লিস্টের শুরুতেই থাকা চাই পালংশাকের মতো সবুজ পাতাযুক্ত সবজি। এগুলোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ‘ভিটামিন কে’ এবং প্রাকৃতিক নাইট্রেট, যা রক্তনালিকে সচল রাখে। বেরি-জাতীয় ফল যেমন স্ট্রবেরি বা ব্লুবেরিতে থাকা প্রচুর ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ হৃদপিণ্ডের কোষের ক্ষয় রোধ করে। এছাড়া ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো ‘ক্রুসিফেরাস’ সবজিগুলো কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে এক অভাবনীয় ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ফুলকপিতে থাকা ‘সালফোরাফেন’ হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সরাসরি কাজ করে।
প্রোটিন নির্বাচনে সচেতনতা:
আমিষের তালিকায় আমাদের চিরচেনা ইলিশের পাশাপাশি রূপচাঁদা, ম্যাকারেল বা টুনার মতো চর্বিযুক্ত মাছ রাখা জরুরি। এসব মাছে রয়েছে ‘ওমেগা-৩’ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হার্টের ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। মাংস খেতে চাইলে চামড়া ছাড়া মুরগি বা ‘টার্কি’র মাংস বেছে নিন। এছাড়া উদ্ভিদজাত প্রোটিন হিসেবে ডাল, ছোলা এবং রাজমা বিন নিয়মিত খাওয়া উচিত। একটি ডিম প্রতিদিনের প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি হৃদস্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে।
শস্য, তেল ও মসলার ব্যবহার:
সাদা চাল বা আটার বদলে পূর্ণ দানার শস্য যেমন লাল চাল, গম বা ‘কিনোয়া’ বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ওটসের ‘বিটা গ্লুকেন’ শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা ‘এলডিএল’ (LDL) কমাতে জাদুকরী ভূমিকা রাখে। ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে সাধারণ সয়াবিনের পরিবর্তে ‘এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল’ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন। রান্নায় লবণের পরিমাণ কমিয়ে স্বাদ বাড়াতে রসুন, পেঁয়াজ ও হলুদের মতো ভেষজ মসলা বেশি করে ব্যবহার করুন।
দুগ্ধজাত পণ্য ও স্ন্যাকস:
বিকেলের নাস্তায় ভাজাপোড়ার বদলে লবণ ছাড়া কাঠবাদাম, আখরোট বা চিয়া সিড বেছে নিন। দুগ্ধজাত খাবারের ক্ষেত্রে ‘লো-ফ্যাট’ টক দই হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী, কারণ এতে থাকা ‘প্রোবায়োটিক’ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই আপনার হার্টকে দীর্ঘকাল সচল ও সবল রাখতে পারে। মনে রাখবেন, একটি সচেতন শপিং লিস্ট কেবল অর্থ সাশ্রয় করে না, এটি আপনাকে হাসপাতালের ব্যয়বহুল চিকিৎসা থেকেও দূরে রাখতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।