তীব্র দাবদাহ কিংবা শারীরিক অসুস্থতা; পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে পানির কোনো বিকল্প নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা হলো শরীরের এমন এক অবস্থা, যেখানে যতটুকু তরল গ্রহণ করা হয় তার চেয়ে বেশি পরিমাণ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, তৃষ্ণা পাওয়া মানেই হলো আপনার শরীরে ইতিমধ্যে হালকা পানিশূন্যতা তৈরি হয়েছে। তাই তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করাই সুস্থ থাকার প্রধান শর্ত।
মানুষের শরীরের কাঠামোগত গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আমাদের দেহের প্রায় ৭৮ শতাংশই পানি। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো—মানুষের মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ডের ৭৩ শতাংশ, ফুসফুসের ৮৩ শতাংশ এবং কিডনি ও পেশির ৭৯ শতাংশই পানি দিয়ে গঠিত। এমনকি আমাদের হাড়ের ৩১ শতাংশ উপাদানই হলো পানি। ফলে শরীরে সামান্যতম পানির অভাব হলে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর কর্মক্ষমতা সরাসরি ব্যাহত হয়। পানি কেবল হজমে সাহায্য করে না, বরং এটি শরীরের রাসায়নিক ভারসাম্য বজায় রাখে এবং সারা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে।
পানিশূন্যতার লক্ষণগুলো বয়সভেদে ভিন্ন হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে শুকনো জিহ্বা ও ঠোঁট, কান্নার সময় চোখে পানি না আসা, দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা প্রস্রাব না হওয়া কিংবা মাথার তালুর নরম অংশ দেবে যাওয়া অত্যন্ত বিপদসংকেত। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে তীব্র মাথাব্যথা, প্রলাপ বকা, ক্লান্তি, মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং গাঢ় রঙের প্রস্রাব ডিহাইড্রেশনের প্রাথমিক উপসর্গ। অনেক সময় পানিশূন্যতার কারণে রক্তচাপ বিপজ্জনক মাত্রায় কমে যেতে পারে, যা পরবর্তীকালে হিটস্ট্রোক বা কিডনি বিকল হওয়ার মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ এবং শিশুরা পানিশূন্যতার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। প্রবীণদের ক্ষেত্রে তৃষ্ণা বোধ করার ক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে তাঁরা অজান্তেই ডিহাইড্রেশনের শিকার হন। প্রতিকারের বিষয়ে চিকিৎসকেরা বলছেন, মৃদু পানিশূন্যতায় ওরাল রিহাইড্রেশন স্যালাইন বা ইলেক্ট্রোলাইটযুক্ত পানীয় অত্যন্ত কার্যকর। তবে পরিস্থিতি যদি গুরুতর হয় এবং রোগী বিভ্রান্তি বা শকের লক্ষণ দেখায়, তবে বিলম্ব না করে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ‘আইভি ফ্লুইডস’ (IV Fluids) বা শিরার মাধ্যমে তরল গ্রহণ করা জরুরি।
বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন সময়ে বা ব্যায়ামের সময় অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। এই ঘাটতি পূরণে কেবল পানি নয়, বরং ডাব বা ফলের রসের মতো স্বাস্থ্যকর তরল গ্রহণ করা উচিত। মনে রাখা প্রয়োজন, পানিশূন্যতা কেবল একটি শারীরিক অস্বস্তি নয়; বরং সঠিক সময়ে সচেতন না হলে এটি মৃত্যুঝুঁকি পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।