ফুটবল বিশ্বের মহাযজ্ঞ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের কাছে ১–০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। মাঠের সেই বিষাদ কেবল গ্যালারিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনেও। বিশেষ করে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির একটি বিশেষ ‘বিয়ের পরিকল্পনা’ এই হারের সঙ্গে সঙ্গেই আপাতত ভেস্তে গেল। আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে পুনরায় বিয়ের পিঁড়িতে বসার যে ঘোষণা তিনি দিয়েছিলেন, দলের পরাজয়ে তার করুণ সমাপ্তি ঘটেছে। ফাইনাল শেষে এক বিষণ্ণ কিন্তু রসিকতাপূর্ণ প্রতিক্রিয়ায় পরীমনি বলেন, ‘বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আরকি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে।’
পরীমনি বরাবরই লিওনেল মেসির একনিষ্ঠ ভক্ত। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকাশি-সাদা জার্সিতে সরব ছিলেন। কখনো ভিডিও বার্তায়, আবার কখনো আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় আসে গত বুধবারের একটি পোস্ট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করব। ফাইনাল।’ ডিজিটাল যুগের ‘স্মার্টফোন’ ব্যবহারকারীদের কাছে মুহূর্তেই এই বার্তা ‘ভাইরাস’-এর মতো ছড়িয়ে পড়ে। ভক্ত-অনুরাগীদের কয়েক লাখ রিয়াকশন আর হাজার হাজার শেয়ারে পরীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়।
তবে এই মজার ছলে দেওয়া ঘোষণা যে তাঁর জন্য এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করবে, তা হয়তো তিনি নিজেও ভাবেননি। ফাইনালে হারের আগে একটি সাক্ষাৎকারে পরীমনি হাসতে হাসতেই তাঁর বিড়ম্বনার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘এর আগে কোনো ঘোষণা দিয়ে তো আমি বিয়ে করিনি। হুটহাট প্রেম আর বিয়েই ছিল আমার অভ্যাস। কিন্তু এবার ঘোষণা দিয়ে রীতিমতো মুসিবতে পড়ে গেলাম। মানুষ বিষয়টি এত গুরুত্বের সঙ্গে নেবে ভাবিনি। হাজার হাজার সিরিয়াস বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছে ইনবক্সে, যা সামলানো আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।’
বিয়ের পথে ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে এই অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘বিয়ের জন্য তো একটি পারিবারিক কাঠামোর প্রয়োজন, একজন অভিভাবক লাগে। বর্তমানে আমার পাশে ওই পর্যায়ের কেউ নেই। তাই ভাবছি ছেলে বড় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি। আমার ছেলে যখন বিয়ের উপযুক্ত হবে বা অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারবে, তখনই হয়তো নতুন করে ভাবা যাবে।’
ফাইনালে হারের পর পরীমনির ফেসবুক পোস্টে ৫২ হাজারের বেশি মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। যদিও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য এড়াতে তিনি মন্তব্যের ঘরটি বন্ধ রেখেছিলেন। পরীমনির মতে, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি এক গভীর আবেগ। আর্জেন্টিনার এই পরাজয় তাঁকে মর্মাহত করলেও তিনি বিশ্বাস করেন, হার মানেই সব শেষ নয়। নতুন করে শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি মেসি ও তাঁর দলের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। আপাতত পরীর সেই ‘বিয়ের বাজেট’ আর রাজকীয় আয়োজনের ঘোষণাটি মাঠের উত্তেজনার সাথেই বিলীন হয়ে গেল।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।