ক্যানসারের সঙ্গে দেড় বছরের লড়াই শেষ: না-ফেরার দেশে ‘মেকানিক্স’ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা গিটারিস্ট ইমরান

দেশের আন্ডারগ্রাউন্ড ও হেভি মেটাল ব্যান্ডসংগীতের জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। জনপ্রিয় মেটাল ব্যান্ড ‘মেকানিক্স’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক দক্ষ গিটারিস্ট ইমরান আহমেদ না-ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তরুণ এই সংগীতশিল্পীর অকালপ্রয়াণের খবরটি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন ‘মেকানিক্স’ ব্যান্ডের দলনেতা ও প্রধান ভোকালিস্ট আফতাবুজ্জামান ত্রিদিব।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে মরণব্যাধি খাদ্যনালির ক্যানসারে আক্রান্ত হন মেধাবী এই গিটারিস্ট। রোগটি শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর দিয়ে চলছিল কঠিন শারীরিক যুদ্ধ ও টানা চিকিৎসা প্রক্রিয়া। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন কখনো হাসপাতালে, আবার কখনো বাসায় কেটেছে তাঁর দিনগুলো। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটতে থাকে। পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত রাজধানীর একটি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

সহযোদ্ধা ও দীর্ঘদিনের বন্ধুর বিদায়ের বেদনাবিধুর মুহূর্তে আফতাবুজ্জামান ত্রিদিব প্রথম আলোকে বলেন, "ওর শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। বলা যায় এক বছর যাবত বেশি অসুস্থ ছিল। হাসপাতালেই থাকতে হয়েছে এ সময়েই। ওর জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমরা এখন হাসপাতালেই আছি। জানাজা ও দাফনের বিষয় এখনো পারিবারিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। সব চূড়ান্ত হলে আমরা জানিয়ে দেব।"

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে দেশের ব্যান্ড সংগীতের ভূবনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল হেভি মেটাল ব্যান্ড ‘মেকানিক্স’। ব্যান্ডটির সূচনালগ্নের প্রথম লাইনআপের একজন অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন ইমরান আহমেদ। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তরুণদের জনপ্রিয় ব্যান্ড প্রতিযোগিতা ‘ডি রকস্টার’-এর দ্বিতীয় সিজনে চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স দেখিয়ে দেশের অন্যতম শীর্ষ গিটারিস্ট হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি ও প্রশংসা কুড়ান তিনি। তবে এর ঠিক পরের বছরই অর্থাৎ ২০০৮ সালে ব্যান্ড দলটির সঙ্গে ইতি টেনে সরে আসেন ইমরান।

‘মেকানিক্স’ ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি আর নতুন করে অন্য কোনো ব্যান্ড বা সংগীতাঙ্গনের মূলধারার সঙ্গে নিজেকে জড়াননি। গিটার ও মঞ্চের আলোকচ্ছটা থেকে দূরে সরে গিয়ে সম্পূর্ণভাবে মনোযোগ দিয়েছিলেন পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনার কাজে। ব্যক্তিজীবনে অকালপ্রয়াত এই গিটারিস্ট তাঁর স্ত্রী এবং একমাত্র কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তাঁর এই আকস্মিক বিদায়ে দেশের রক ও মেটাল সংগীতপ্রেমীদের মাঝে শোকের বিষাদ ছড়িয়ে পড়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।