‘আমরা না জাগলে সকাল হবে কেন?’: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসংগীত পরিষদের ভিন্নধর্মী আয়োজন

বসন্তের বিদায় আর প্রখর রৌদ্রোজ্জ্বল বৈশাখের আগমনে নতুন বাংলা বছরকে বরণ করে নিতে বর্ণিল উৎসবে মেতেছে রাজধানী। এই আনন্দধারায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ’। কবিতা, গান, নৃত্য আর আবৃত্তির মধ্য দিয়ে নতুন সূর্যকে স্বাগত জানায় সংগঠনটি। এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই অমর পঙক্তি— ‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে’।

অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই শহীদ মিনারের পাদদেশ মুখরিত হয়ে ওঠে গণসংগীত সমন্বয় পরিষদভুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের বলিষ্ঠ পরিবেশনায়। দলীয় সংগীতের মাধ্যমে প্রাণের স্পন্দন জাগিয়ে তোলে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী, বহ্নিশিখা, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, আনন্দন, ভিন্নধারা, সুরতাল, সমস্বর, উঠোন, উজান ও সুরনন্দন। প্রতিটি পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বাঙালির চিরায়ত সংগ্রাম ও ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি।

সংগীতের পাশাপাশি নৃত্যের ছন্দে দর্শক-শ্রোতাদের বিমোহিত করে বহ্নিশিখা ও ধৃতি নর্তনালয়ের শিল্পীরা। একক সংগীতের মূর্ছনা ছড়িয়ে দেন প্রলয় সাহা, আরিফ রহমান, আবিদা রহমান ও শ্রাবণী গুহ রায়। কবিতার শৈল্পিক উচ্চারণে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার আশরাফুল আলম। এছাড়া শিশু দল শিল্পবৃত্ত ও সুরতালের কনিষ্ঠ সদস্যদের হৃদয়স্পর্শী আবৃত্তি উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সহসভাপতি শিল্পী নিলুফার জাহান গত বছরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য বিগত বছরটি ছিল অত্যন্ত ঘটনাবহুল। তবে আমরা বিশ্বাস করি, সব গ্লানি ও কুসংস্কার পেছনে ফেলে নতুন বছর সবার জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসবে।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী তার স্বাগত বক্তব্যে দেশের সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কুষ্টিয়ায় পীর হত্যার সাম্প্রতিক নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সব ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠীর মানুষের। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ‘মব সন্ত্রাস’ বা গণপিটুনির মাধ্যমে যে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে, তা আমাদের সংস্কৃতির পরিপন্থী। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব মতের মানুষ নিজস্ব আদি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবে।”

মাহফুজা আক্তার ও এ কে আজাদের সাবলীল সঞ্চালনায় এই মহতী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সাংস্কৃতিক অনুরাগী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে এক সার্থক উৎসবে রূপান্তর করে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া