আগুনের হলকা না কি ঝড়ের তাণ্ডব? ১৪ জেলায় তাপপ্রবাহের মাঝে কালবৈশাখীর মহাবিপদ সংকেত

গ্রীষ্মের তপ্ত দহন আর ভ্যাপসা গরমে যখন দেশজুড়ে জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই প্রকৃতির এক রুদ্রমূর্তির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের অন্তত ১৪টি জেলায় বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক কর্মজীবনে চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে। তবে এই অসহনীয় গরমের মাঝেই স্বস্তির চেয়েও বেশি শঙ্কা জাগিয়ে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়। আবহাওয়া অফিস আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সকালে এক বিশেষ বুলেটিনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টিসহ প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালের মধ্যেই ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে এক ভয়াবহ আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়ের তীব্রতা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত (Cautionary Signal No. 2) দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নদীবেষ্টিত অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশের অবশিষ্ট এলাকাগুলোর ওপর দিয়েও ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাব এবং বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণে এই আকস্মিক ঝোড়ো বৃষ্টির সৃষ্টি হচ্ছে, যা কৃষি ও যাতায়াত ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর আকাশ আজ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি দুপুরের পর বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার ভোর ৬টায় ঢাকার বাতাসের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গুমোট গরমের তীব্রতাকেই নির্দেশ করছে। আজ রাজধানীতে সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে এবং আগামীকাল রবিবার ভোরের আলো ফুটবে ৫টা ১২ মিনিটে।

প্রবল বজ্রপাতের শঙ্কা থাকায় সাধারণ মানুষকে খোলা জায়গায় চলাফেরার সময় সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গাছপালা বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে অবস্থান না করতে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাপপ্রবাহ ও ঝড়ের এই দ্বিমুখী সংঘাত বাংলাদেশের বৈরী জলবায়ুর এক চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন আবহাওয়াবিদরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।