১৬ বছর পর ফিরছে ৭ নভেম্বরের ছুটি: মন্ত্রিসভার বড় সিদ্ধান্তে নতুন ইতিহাস

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পুনরায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। দীর্ঘ ১৬ বছরের বিরতি কাটিয়ে দিবসটিকে আবারও ‘ক-শ্রেণী’ভুক্ত ঘোষণা করে সরকারি ছুটি পুনর্বহালের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।


বৈঠক শেষে রাত ৮টায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশবাসীকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার যে অনন্য অধ্যায় রচিত হয়েছিল, তার চেতনাকে সমুন্নত রাখতেই এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত। আধিপত্যবাদ ও গভীর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ সেদিন যে নতুন পথের দিশা পেয়েছিল, দীর্ঘ দেড় যুগ পর বর্তমান সরকার সেই হারানো গৌরব ও দিবসটির মর্যাদা পুনরুদ্ধার করল।


মন্ত্রিসভার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কেবল রাজনৈতিক নয়, দেশের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক খাতের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যেও বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ (সোলার পাওয়ার) উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫’ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে বিনিয়োগ সহজীকরণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমান সোলার সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার, যেখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৪ থেকে ৮ টাকার মধ্যে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।


সরকারের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি খাস জমির পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে নীতিমালার প্রয়োজনীয় রিভিউ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি উইন্ড মিল (বায়ুশক্তি) এবং বায়োগ্যাস নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে ক্যাবিনেট বৈঠকে।


এছাড়া, গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং পল্লী উন্নয়নের গুরুত্বকে সামনে আনতে প্রতি বছরের ৬ জুলাইকে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটি ‘খ-শ্রেণী’ভুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হবে, যার অর্থ এই দিনে কোনো সরকারি ছুটি থাকবে না, তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হবে। সামগ্রিকভাবে, মন্ত্রিসভার এই বৈঠকটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পুনর্লিখন এবং ভবিষ্যতের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।