জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং টিকাদানে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তর আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। সম্প্রতিক সময়ে টিকা ইস্যু নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া নানা সংশয় ও উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "টিকাদান কর্মসূচি চলাকালে শিশু মৃত্যুর মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পেছনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো খারাপ বা অশুভ উদ্দেশ্য ছিল না। সরকার সবসময়ই শিশুদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।" তবে তিনি স্বীকার করেন যে, টিকাদানে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে একটি নিবিড় তদন্ত প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং কেন এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা দ্রুত খুঁজে বের করা হবে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
ব্রিফিংয়ে বর্তমান টিকাদান কর্মসূচির একটি পরিসংখ্যানগত চিত্রও তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, সরকারি ডাটাবেজ অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী মোট ১ কোটি ৬১ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এটি মোট লক্ষ্যমাত্রার বা টার্গেটের প্রায় ৮৯ শতাংশ। বাকি ১১ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে কাজ চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
স্বাস্থ্য খাতের এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কোনো সমন্বয়হীনতা ছিল কি না, তা নিয়েও দাপ্তরিক পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। তথ্য উপদেষ্টা জানান, সরকার প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ এবং তদন্তে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে জনগণের সহযোগিতা ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।