যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি: ‘অহেতুক আতঙ্কিত হবেন না’, দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ নিরসনে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সাথে হওয়া এই বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে মার্কিন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের যে বাণিজ্য চুক্তিটি কার্যকর রয়েছে, তা চাইলেই হঠাৎ করে বাতিল করা সম্ভব নয়। এটি মূলত আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। তবে সরকার সবসময়ই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।” তিনি আরও যোগ করেন যে, চুক্তির কোনো বিশেষ ধারা যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হয়, তবে তা আলোচনার মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা বা সংস্কার করার আইনি সুযোগ খোদ চুক্তিতেই রাখা হয়েছে। ফলে এই ‘ডিল’ বা সমঝোতা নিয়ে দুশ্চিন্তার অবকাশ নেই।

প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত বাড়তি শুল্কের (Tariff) প্রভাব থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে রক্ষা করতে ঢাকা ও ওয়াশিংটন একটি বিশেষ ‘পারস্পরিক শুল্ক’ (রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ) চুক্তিতে সই করে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশি পণ্যের জন্য মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ রাখা এবং সম্ভাব্য বাণিজ্যিক ঝুঁকি কমিয়ে আনা।

উল্লেখ্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেছিলেন সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন এবং সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার এই চুক্তির প্রতিটি দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং রপ্তানিকারকদের স্বার্থ রক্ষা করাই মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতির এই সন্ধিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।