মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কেন চুপ বড় দলগুলো? ছাত্র ফেডারেশনের বিস্ফোরক প্রশ্ন

 রাজধানী ঢাকার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আজ বুধবার বিকেলে এক উত্তাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে এই সমাবেশে বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ একাধিক ইস্যুতে সরকার এবং প্রধান বিরোধী দলের ‘রহস্যময় নীরবতা’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। বিশেষ করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বিতর্কিত ‘বাণিজ্যচুক্তি’ নিয়ে বর্তমান সংসদের সরকারি দল বিএনপি জোট এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

সমাবেশে ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড অভিযোগ করে বলেন, জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে সম্পাদিত এই চুক্তির সার্বভৌমত্ববিরোধী ধারাগুলো অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। তিনি দাবি করেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের গোপন চুক্তি জনগণ মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, “সংসদ অধিবেশনে এই চুক্তির প্রতিটি শর্ত উন্মুক্ত করে আলোচনা করা এখন সময়ের দাবি। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর এই চুপ থাকা দেশবাসীর সঙ্গে এক প্রকার প্রতারণার শামিল।”

বক্তব্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতের নাজুক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে রিচার্ড আরও বলেন, বর্তমানে হামে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রতিদিন শিশুর মৃত্যু ঘটছে, যা একটি ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’র সমতুল্য। তিনি অবিলম্বে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে বিশেষ ‘হাম কর্নার’ স্থাপন এবং আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি, টিকার অব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত অসাধু ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ তাঁর বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সেই চুক্তিকে ‘গোপন চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন বর্তমান সরকার এই চুক্তিটিকে সংসদে বিল আকারে পেশ করে আলোচনার সুযোগ দিচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে এই চুক্তি করা হয়েছে। এখন সরকার বা বিরোধী দল কেউই এ নিয়ে টুঁ শব্দ করছে না। তাদের এই রহস্যজনক নীরবতার পেছনের কারণ দেশবাসী জানতে চায়।”

সমাবেশে বক্তারা সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক কলেজছাত্রসহ দুজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের ঘটনারও তীব্র নিন্দা জানান। তাঁরা ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি কঠোর দাবি জানান। বক্তাদের মতে, সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের অবস্থান আরও কার্যকর ও বলিষ্ঠ হওয়া প্রয়োজন।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি আল-আমিন রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সজীব হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাইদুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।