মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের সক্রিয় কূটনৈতিক মধ্যস্থতার ভূয়সী প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ। তুরস্কের ঐতিহাসিক শহর আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম’-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পার্শ্ববৈঠকে এই কৃতজ্ঞতা ও সাধুবাদ জানানো হয়। আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সংকট উত্তরণে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আজ শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার আন্তালিয়ায় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক নানা ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান অস্থিরতা নিরসনে সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়। বিশেষ করে সংঘাতের একটি টেকসই ও সমঝোতামূলক সমাধান নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রশংসনীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য ইসহাক দারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানান খলিলুর রহমান।
উক্ত বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. হুমায়ুন কবির। দুই দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার রোডম্যাপ নিয়েও কথা বলেন। বৈঠকের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলারে দেওয়া এক পোস্টে বৈঠকের ফলপ্রসূ হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার বিষয়ে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছি। ভবিষ্যতে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়ে আমি দারুণ আশাবাদী।’
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে ঢাকা একাধিক বিবৃতি দিলেও কৌশলগত কারণে কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যখন একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তখন দেওয়া বিবৃতিতে বাংলাদেশ তার নামবিহীন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তুরস্কের এই বৈঠকটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন এক মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।