তিতাস গ্যাসের ২৮৩ কোটি টাকার শেয়ার যাচ্ছে সরকারের হাতে; বিএসইসির সবুজ সংকেত

দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড তাদের মূলধনি কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অনুকূলে ২৮৩ কোটি টাকার প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ইস্যু করার চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে সংস্থাটি। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ১৫ এপ্রিল তিতাস গ্যাসকে এই শেয়ার ইস্যুর বিষয়ে তাদের সম্মতি জ্ঞাপন করেছে।


পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে তিতাস গ্যাস আজ সোমবার (১৫ এপ্রিলের পরবর্তী কার্যদিবসে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে দেওয়া ‘শেয়ার মানি ডিপোজিট’-এর বিপরীতে এই নতুন শেয়ার ইস্যু করা হচ্ছে। এর আগে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর আয়োজিত কোম্পানিটির বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) সাধারণ শেয়ারধারীরা এই প্রস্তাবের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছিলেন। শেয়ারধারীদের এই সম্মতির ভিত্তিতেই বিএসইসির কাছে চূড়ান্ত আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।


ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, তিতাস গ্যাস সরকারের অনুকূলে মোট ২৮ কোটি ২৭ লাখ ৪৭ হাজার ৪৬৯টি নতুন অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ইস্যু করতে যাচ্ছে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালু নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। উল্লেখ্য, অগ্রাধিকারমূলক শেয়ারের ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডাররা লভ্যাংশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকেন।


২০০৮ সালে দেশের পুঁজিবাজারে নাম লেখানো তিতাস গ্যাসের বর্তমান অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৯৮৯ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাজারে কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা বর্তমানে ৯৮ কোটি ৯২ লাখ ২১ হাজার ৮৩১টি। এর মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ শেয়ারই সরকারের মালিকানাধীন। বাকি শেয়ারগুলোর মধ্যে ১৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং ১০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।


তবে বড় অংকের এই শেয়ার ইস্যুর খবরের মধ্যেই কোম্পানিটির সাম্প্রতিক আর্থিক চিত্র খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি তাদের বিনিয়োগকারীদের মাত্র ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেছে। বর্তমানে শেয়ারবাজারে তিতাসের প্রতিটি শেয়ার ১৭ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে, যেখানে তাদের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা। এমন অস্থিতিশীল আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যেই সরকারের কাছে বিপুল অংকের শেয়ার হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।