জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীকে গুলির ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় ফের রিমান্ডের মুখে পড়েছেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক ও বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছের। আদালত এই চাঞ্চল্যকর মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের এজলাসে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত এই রিমান্ডের আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শামসুদ্দোহা সুমন গণমাধ্যমের কাছে রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে এজলাসে হাজির করা হয়। এরপর রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া এই হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম আবদুল হক। একই সঙ্গে মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আরেকটি পিটিশন দাখিল করেন তিনি।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে রিমান্ডের পক্ষে জোরদার আইনি লড়াই করেন কৌঁসুলি শামসুদ্দোহা সুমন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন আইনজীবী জাহিদুল হাসান। তবে উভয় পক্ষের দীর্ঘ আইনি যুক্তিতর্ক ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার এই নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ৩০ মার্চ রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে একাধিক মামলায় দফায় দফায় তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সবশেষ আজ কোতোয়ালি থানার এই হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁর নতুন করে রিমান্ড মঞ্জুর হলো।
রিমান্ড আবেদনে মামলার নথির বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা কর্মসূচির অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি পুরান ঢাকার কোর্ট হাউস স্ট্রিট এলাকায় পৌঁছালে তাঁদের ওপর অতর্কিত সশস্ত্র হামলা চালান আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা। এই বর্বরোচিত হামলায় জবি শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাস গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীকালে দীর্ঘ চিকিৎসাধীন থাকার পর হাসপাতাল থেকে তিনি সুস্থ হয়ে ফেরেন। এরপর ন্যায়বিচারের আশায় ওই হামলার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিক। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে এই হামলার নেপথ্যে আফজালের সম্পৃক্ততার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। মূলত এই মাস্টারমাইন্ডদের ইন্ধন ও পরিকল্পনার শিকড় খুঁজতেই তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আদালতকে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।