মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে ২৮ জন বাংলাদেশিসহ মোট ১৭৫ জন বিদেশি নাগরিককে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেশটির জোহর রাজ্যের ইমিগ্রেশন বিভাগ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মূলত মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ করা এই ব্যক্তিদের ‘প্রত্যাবাসন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
জোহর রাজ্যের ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, রাজ্যের ‘পেকান নেনাস’ (Pekan Nenas) ইমিগ্রেশন ডিপোতে দীর্ঘদিন ধরে আটক থাকা এসব অভিবাসীদের শাস্তি সম্পন্ন হওয়ার পরই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ধাপে ধাপে ১৭৫ জনকে বিদায় জানানো হয়। এই তালিকায় সবচেয়ে বড় অংশটি ছিল ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের, যেখানকার ১৩৬ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের ২৮ জন ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন ভারতের ৪ জন, থাইল্যান্ডের ২ জন, কম্বোডিয়ার ২ জন এবং ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা ও স্পেনের একজন করে নাগরিক।
অভিযাত্রীদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ-১ ও কেএলআইএ-২) ছাড়াও স্টুলাং লাউত ও পাসির গুদাং ফেরি টার্মিনাল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যাতায়াত বা বিমান টিকিট খরচের ভার মালয়েশিয়া সরকার নেয়নি। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের নিজস্ব সঞ্চয়, পরিবারের পাঠানো অর্থ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসের বিশেষ সহযোগিতায় এই টিকিট সংগ্রহ করা হয়েছে।
এই ঘটনার সবচেয়ে নেতিবাচক দিক হলো, বহিষ্কৃত হওয়া প্রত্যেক অভিবাসীকে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী ‘কালো তালিকাভুক্ত’ (Blacklist) করেছে। ফলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তাঁরা কাজের উদ্দেশ্যে তো বটেই, এমনকি পর্যটক হিসেবেও পুনরায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না। মালয়েশিয়া সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে অনেক প্রবাসী শ্রমিকের দীর্ঘদিনের উপার্জনের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি জোরদার করায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের বিমান ও ফেরি টার্মিনালমুখী প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।