অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্য: টানা ৩ দিন তেলের দাম বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে ভয়াবহ সংকটের ইঙ্গিত!

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ সরাসরি গিয়ে লেগেছে বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজারে। লোহিত সাগর থেকে শুরু করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ভয়াবহ হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা তৃতীয় দিনের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা চরমভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে, যার সরাসরি প্রতিফলন ঘটছে তেলের এই ক্রমবর্ধমান বাজারদরে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বৈশ্বিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.৭০ মার্কিন ডলার বা ২.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯.৪৪ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে গত সোমবার (২ মার্চ) লেনদেনের একপর্যায়ে এই তেলের দাম ৮২.৩৭ ডলারে উঠে গিয়েছিল, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর থেকে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্য হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও ওই দিন শেষে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় বৃদ্ধির হার ৬.৭ শতাংশে থিতু হয়।

একই চিত্র দেখা গেছে মার্কিন বাজারেও। সেখানে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.১৭ ডলার বা ১.৬ শতাংশ বেড়ে ৭২.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের সেশনের লেনদেনে এই তেলের দামও ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল এবং দিন শেষে ৬.৩ শতাংশ মুনাফায় বন্ধ হয়েছিল। মূলত হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কাই বাজারের এই অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষক টনি সিকামোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত প্রশমনের কোনো কার্যকর লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ বা বিঘ্নিত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে ইরান যদি ওই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু বানানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে এই যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে তেলের আন্তর্জাতিক বাজার তত বেশি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান এই অস্থিতিশীলতায় জ্বালানি নির্ভর দেশগুলোর আমদানিকারকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।