সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের ‘ডেডলাইন’: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে ব্যাপক তান্ডব

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ইরানে শুরু হয়েছে ব্যাপক সামরিক অভিযান। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে ইরানের রেললাইন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক নজিরবিহীন সতর্কবার্তায় আইডিএফ ইরানি নাগরিকদের আগামী ১২ ঘণ্টার জন্য ট্রেন ব্যবহার না করতে এবং রেলপথ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশ দেয়। সেই সতর্কবার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার তেহরান, কারাজ, তাবরিজ, কাশান এবং কোমসহ অন্তত আটটি প্রধান এলাকায় সেতুগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, কাশান শহরে একটি রেল সেতুতে হামলার ঘটনায় অন্তত দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া কারাজে রেললাইনে বিমান হামলার পর আহতদের উদ্ধারে রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের তৎপরতা চালাতে দেখা গেছে।

ভৌগোলিকভাবে ইরানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কোম ও তাবরিজ এলাকাও এই হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। আইআরআইবি-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পশ্চিম কোম প্রদেশের স্থল পরিবহন সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এছাড়া তাবরিজ-তেহরান মহাসড়কসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা বিভাগ আহভাজ শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত হামলার কথা নিশ্চিত করেছে।

এই সামরিক তান্ডবের সমান্তরালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে লিখেছেন, ‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।’ তিনি এই পরিস্থিতিকে ৪৭ বছরের শাসনের অবসান হিসেবে চিহ্নিত করে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত রোববারই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে মঙ্গলবার হবে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’ ও ‘সেতু দিবস’ এবং এর জন্য তিনি মঙ্গলবার রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) ডেডলাইন নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতেই এই চূড়ান্ত সংঘাতের পথে হাঁটল ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক অনিশ্চিত এবং ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া