শীঘ্রই কি থামছে বারুদের গর্জন? ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত জয়ের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রণাঙ্গনে বারুদের গন্ধের মাঝেই এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসান খুব শীঘ্রই হতে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় সুনিশ্চিত। বিশ্ব রাজনীতির এই সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে নতুন এক ‘স্ট্র্যাটেজিক’ বা কৌশলগত মোড় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সাথে ভবিষ্যৎ আলোচনার রূপরেখা নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, তেহরান যদি সত্যিই সংঘাতের অবসান চায়, তবে আলোচনার দ্বার সবসময় উন্মুক্ত। তবে এবার আর প্রথাগত দীর্ঘ বৈঠকের পথে না হেঁটে সরাসরি যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, "এখন থেকে পরবর্তী সব আলোচনা মূলত টেলিফোনের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।" ইরানের প্রতিনিধি দল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, সেখানে কিছু আলোচক যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত হলেও অনেকের মধ্যেই উগ্রতা রয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ধ্বংসাত্মক পথ পরিহার করে ইরান শেষ পর্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে। উল্লেখ্য, এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ইরানের বহুল বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি বা ‘নিউক্লিয়ার ইস্যু’।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি নিয়েও ট্রাম্পের কণ্ঠে শোনা গেছে ভিন্ন সুর। সাক্ষাৎকারে তিনি পাকিস্তানের বর্তমান নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল এবং প্রধানমন্ত্রীকে ‘চমৎকার’ ও ‘সম্মানযোগ্য’ ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করে তিনি তাঁদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, ওই সংঘর্ষে মোট ১১টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। ট্রাম্পের এই পরিসংখ্যানগত দাবি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ওয়াশিংটনে সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়েও মুখ খুলেছেন ট্রাম্প। ওই ঘটনার হামলাকারী সম্পর্কে তিনি বলেন, তদন্তে দেখা গেছে হামলাকারী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এমনকি তাঁর পরিবারও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল। হামলাকারীর রেখে যাওয়া ‘ম্যানিফেস্টো’ বা ইশতেহার বিশ্লেষণ করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, ওই ব্যক্তি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত ছিলেন। তবে মার্কিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে হামলাকারীকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারটি এমন এক সময়ে এল যখন বিশ্ব তেলের বাজার এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সাথে যুদ্ধের ‘ডেডলাইন’ বা সমাপ্তি নিয়ে তাঁর এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা শেষ পর্যন্ত রণক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।