শিশুদের অধিকার নিয়ে কথা বলাও কি এখন ‘অপরাধ’? ইসরায়েলের নতুন পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘকালীন আগ্রাসন ও হত্যাযজ্ঞের প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন ও অমানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইসরায়েল সরকার। গাজা ও পশ্চিম তীরে হাজার হাজার শিশু হত্যার পর এবার তাদের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা কণ্ঠস্বরগুলোকেও স্তব্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফিলিস্তিনি শিশুদের অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত প্রখ্যাত সংস্থা ‘ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল - প্যালেস্টাইন’ (DCIP)-কে সম্প্রতি ‘কালো তালিকাভুক্ত’ (Blacklist) করেছে তেল আবিব। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে সরাসরি ‘অপরাধীকরণ’ (Criminalization) করার এই নীতি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার জন্ম দিয়েছে।

দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে নিপীড়িত ফিলিস্তিনি শিশুদের আইনি সুরক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে আসা এই সংস্থাটি অবশেষে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ইসরায়েলি প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে ‘অবৈধ’ ও ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করার প্রতিবাদে সংস্থাটি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, ইসরায়েল মূলত ফিলিস্তিনি শিশুদের পক্ষে কথা বলা প্রতিটি সংগঠনকেই এখন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আবেগঘন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ফিলিস্তিনি শিশুরা আজ গণহত্যা, বর্ণবৈষম্য (Apartheid), দীর্ঘদিনের সামরিক দখলদারিত্ব এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করা অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের এক অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে জীবনযাপন করছে।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, দশকের পর দশক ধরে তারা প্রতিটি প্রতিকূলতা ও বাধা অতিক্রম করে ফিলিস্তিনি শিশুদের নিরাপত্তা ও জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করেছে। তবে বর্তমান ‘অপরাধীকরণের’ নীতি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব করে তুলেছে।

সংস্থাটি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি এক উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হলেও অন্য মানবাধিকার সংগঠন ও স্বাধীন সংস্থাগুলো যেন ফিলিস্তিনি শিশুদের প্রাপ্য ভবিষ্যতের জন্য লড়াই চালিয়ে যায়। তাদের মতে, শিশুদের সুরক্ষায় কথা বলা কোনোভাবেই অপরাধ হতে পারে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিশুদের অধিকার রক্ষাকারী সংস্থাকে নিষিদ্ধ করা মূলত ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণগুলো গোপন করার একটি অপকৌশল। যেখানে ফিলিস্তিনের কয়েক প্রজন্ম যুদ্ধের ভয়াবহতায় পিষ্ট হচ্ছে, সেখানে তাদের জন্য নিয়োজিত একমাত্র সুরক্ষা বলয়টিকে ভেঙে দেওয়া বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে গাজা ও পশ্চিম তীরের শিশুরা এখন আইনি সহায়তা এবং বিশ্বদরবারে তাদের অধিকারের কথা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যমটি হারিয়ে ফেলল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।