দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা থেকে মুক্ত করে পুনরায় সক্রিয় ও গতিশীল করতে এক অভাবনীয় ও শক্তিশালী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার। দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে থাকা এই আঞ্চলিক জোটকে কীভাবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করা যায়, সে বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সার্কের বর্তমান মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ারের কাছে বিস্তারিত রূপরেখা জানতে চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সার্ক মহাসচিবের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে সার্কের বর্তমান স্থবিরতা কাটিয়ে তোলার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহাসচিব গোলাম সারওয়ার নিজেই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ও সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সার্কের বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করা এবং এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
সার্ক মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও সার্কের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছিল। ফলে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই আঞ্চলিক জোটের কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ ‘ফোকাস’ বা জোর দিচ্ছে। মূলত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সার্কের মতো একটি প্ল্যাটফর্মকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করছে সরকার। আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সার্ক শীর্ষ সম্মেলন (SAARC Summit) আয়োজন করার বিষয়টি। মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের এই সক্রিয় ভূমিকা সংস্থার সার্বিক কর্মকাণ্ডে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।
উল্লেখ্য যে, আঞ্চলিক কূটনীতি জোরদারের এই প্রক্রিয়ায় গত সোমবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন সার্ক মহাসচিব। মূলত দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান টানাপোড়েন কমিয়ে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্লক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সিরিজ বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভূ-রাজনীতির বর্তমান সমীকরণে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার এই প্রয়াস কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।